Abhishek Banerjee: বিলবোর্ড-কাণ্ডে থানায় অভিষেক, বৃষ্টির মধ্যেই ‘দাদা’র সমর্থনে জমায়েত
অভিষেক থানায় যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই শেক্সপিয়র সরণি থানা চত্বরের আশপাশে কর্মী-সমর্থকদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। দুপুরের দিকে বৃষ্টি শুরু হলেও তাতে তাঁদের উৎসাহে কোনও ভাটা পড়েনি। বৃষ্টিতে ভিজেই তাঁরা দলের সাংসদের সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকেন।
ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে বচসার ঘটনায় অবশেষে থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নির্ধারিত সময় দুপুর ১২টার পর শেক্সপিয়র সরণি থানায় পৌঁছন তিনি। ১২টা ১৭ মিনিট নাগাদ নিজের গাড়িতে একাই থানায় ঢোকেন অভিষেক। তবে তাঁকে ঘিরে থানার বাইরে তখন ভিড় জমিয়েছেন বিপুল সংখ্যক তৃণমূল কর্মী-সমর্থক।

অভিষেক থানায় যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই শেক্সপিয়র সরণি থানা চত্বরের আশপাশে কর্মী-সমর্থকদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। দুপুরের দিকে বৃষ্টি শুরু হলেও তাতে তাঁদের উৎসাহে কোনও ভাটা পড়েনি। বৃষ্টিতে ভিজেই তাঁরা দলের সাংসদের সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকেন। কর্মী-সমর্থকদের একাংশ জানান, অভিষেক যতক্ষণ থানার ভিতরে থাকবেন, তাঁরাও ততক্ষণ থানার বাইরে অবস্থান করবেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার, ২৭ অগস্ট। ওই দিন বিকেলে কয়েকজন পুরকর্মী এবং পুলিশ আধিকারিক ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের পার্টি অফিসে পৌঁছন। তাঁদের সঙ্গে ছিল গ্যাস কাটার। পুরকর্মীদের দাবি ছিল, পার্টি অফিসের সামনে থাকা বিলবোর্ডটি বেআইনি এবং সেটি খুলে ফেলতে হবে। বিষয়টি জানতে পেরে অভিষেক নিজে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
অভিষেক পুরকর্মীদের কাছে বিলবোর্ড খুলে ফেলার নির্দেশের কপি দেখতে চান বলে জানা যায়। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা সেই নথি দেখাতে পারেননি। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিষেক ও পুরকর্মীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি নিয়ে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়।
পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে শ্লীলতাহানির অভিযোগও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মামলায় জামিন অযোগ্য ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। এরপরই পুলিশি নোটিস পাঠিয়ে অভিষেককে মঙ্গলবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সেই নির্দেশ মেনেই মঙ্গলবার থানায় পৌঁছন তৃণমূল সাংসদ। তবে থানায় হাজিরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়। অভিষেকের গাড়ি থানার কাছে পৌঁছতেই সমর্থকেরা তাঁকে ঘিরে ফেলেন। নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মধ্য দিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
থানার বাইরে জমায়েত হওয়া কর্মী-সমর্থকদের মুখে শোনা যায়, ‘তোমার নেতা, আমার নেতা, সবার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ’ স্লোগান। পাশাপাশি ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিও ওঠে। বৃষ্টির মধ্যেই দীর্ঘক্ষণ তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন।
অন্যদিকে, পুলিশি তদন্তের ক্ষেত্রে অভিষেকের থানায় হাজিরা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিলবোর্ড অপসারণকে কেন্দ্র করে ঠিক কী ঘটেছিল, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল কি না এবং পুলিশের অভিযোগের ভিত্তি কতটা শক্তিশালী—এখন তদন্তে সেই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখা হবে।
ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে পুলিশ প্রশাসনের অভিযোগ, অন্যদিকে অভিষেকের পক্ষ থেকে সরকারি আধিকারিকদের নির্দেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন—দুইয়ের সংঘাতে বিষয়টি ক্রমশ রাজনৈতিক রং নিচ্ছে। মঙ্গলবার থানায় হাজিরার পর তদন্ত কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
সব মিলিয়ে, ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড-কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থানায় হাজিরা ঘিরে মঙ্গলবার কলকাতার রাজনৈতিক অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। বৃষ্টির মধ্যেও কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত ও স্লোগান পরিস্থিতিকে আরও সরব করে তোলে। এখন পুলিশের তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে সবাই।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


