'বাংলায় নয়া প্রকল্প ছানিশ্রী!' SIR-এ 'মৃত ভোটার' তোপ জ্ঞানেশকে, হিরণের 'ইচ্ছা' ফাঁস অভিষেকের

খড়গপুরে সংগঠন বাড়ানোর বার্তা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

Published on: Jan 16, 2026, 19:11:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের জন্য বাংলায় নতুন প্রকল্প ছানিশ্রী চালু করতে হবে। এসআইআর-এর মাধ্যমে জীবিত ভোটারদের মৃত ঘোষণায় সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরে রণসংকল্প সভা থেকে তিনি নিশানা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে।

হিরণের 'ইচ্ছা' ফাঁস অভিষেকের (সৌজন্যে টুইটার)
হিরণের 'ইচ্ছা' ফাঁস অভিষেকের (সৌজন্যে টুইটার)

ছানিশ্রী প্রকল্প

এদিনের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আজকের সভাতেও তিন জনকে হাজির করাব। জীবিত লোককে মৃত দেখিয়েছে। কমিশনের গায়ে জ্বালা হচ্ছে। অভিষেক নিজের সভায় কী করে এঁদের উপস্থিত করছে? আরও এক জনকে করতাম, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তাঁর আজ সন্তান হবে। অমিত শাহ, জ্ঞানেশ কুমারদের নির্দেশে জীবিতদের মৃত দেখাচ্ছে, যাতে তাঁরা ভোট দিতে না পারেন। কারও ভোটাধিকার যেন কাড়া না হয়। দেখতে হবে। বিজেপির ক্ষমতা থাকলে হার্মাদগুলোকে বার করুক, যাঁদের নাম করলাম।’ এরপরেই সভাতে তিনজন মৃত ভোটারকে নিয়ে হাজির করেন অভিষেক। বিজয় মালি, মঙ্গলি মান্ডি নামে দুই জন ভোটারকে হাজির করানো হয়। এরপরেই তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারের জন্য বাংলায় নতুন প্রকল্প চালু করতে হবে। চোখের ছানি অপারেশন করার জন্যে প্রকল্পের নাম হবে ছানিশ্রী। এঁরা জীবিত ভোটারকে দেখতে পাচ্ছে না। যেহেতু বিজেপি ফর্ম জমা দিতে পারেনি সেহেতু নির্বাচন কমিশন সময়সীমা বাড়িয়ে ১৯ তারিখ করেছে। যদি বিজেপি নেতা ইআরও'র কাছে ১০টির বেশি ফর্ম জমা দিতে আসে, রবীন্দ্র সঙ্গীতের পাশাপাশি একটু ডিজে বাজিয়ে দেবে ভদ্র ভাবে।'

রাজনৈতিক ময়দান বদলের ইঙ্গিত

জেলায় বিজেপির দুই বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়ে তদ্বির করছেন। কিন্তু জনতার দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে সেই দরজা বন্ধ রেখেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার মেদিনীপুরের রণসংকল্প সভা থেকে সে কথাই শোনালেন তিনি। মেদিনীপুরের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বলেন,'আমি নাম বলব না। তবে এখানে বিজেপির দু’জন বিধায়ক রয়েছে। এই দুই জনই আসতে চেয়েছিল। আমি আসতে দিইনি।' তিনি আরও বলেন,'সিপিএমের হার্মাদরাই আজ বিজেপির জল্লাদ হয়ে উঠেছে। যতদিন আমরা আছি, ততদিন তৃণমূলে ওদের জন্য দরজা বন্ধ।' খড়গপুরের বিজেপির তারকা বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নামোল্লেখ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, 'এই তো অজিত মাইতির (জেলা তৃণমূল সভাপতি) সঙ্গে হিরণ আমার অফিসে এসেছিল। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিল। নিইনি। এখনও মেদিনীপুরের ২ বিজেপি বিধায়ক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। কিন্তু এখানের জনতার দাবি মেনে, ইচ্ছের কথা ভেবে আমরা দরজা বন্ধ রেখেছি।'

একই সঙ্গে খড়গপুরে সংগঠন বাড়ানোর বার্তা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বক্তব্য,'খড়গপুর তৃণমূলকে জেতাতে হবে। খড়গপুরের দায়দায়িত্ব আমার। যা লাগবে খড়গপুরের মানুষের জন্য, আমি দায়িত্ব নিয়ে ব্যবস্থা করব।' বিজেপিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন,'বিজেপিকে তো আপনারা অনেক সুযোগ দিলেন। বিধায়ক ছিল, ১৯ থেকে ২৪ পর্যন্ত সাংসদ ছিল। কিছু তো পাননি। উল্টে আমাদের অধিকার বন্ধ করে রেখেছে।' তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কদের কারণেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি। শুক্রবার সভা থেকে অভিষেক বলেন, 'এই মেদিনীপুরের মাটিতেই একজন গদ্দার জেলযাত্রা বাঁচাতে অমিত শা-র পদলেহন করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।'

উল্লেখ্য, বছর দুই আগেই হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দলবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই সময় শোনা যায়, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন হিরণ। অজিত মাইতির সঙ্গে হিরণের একটি ছবি প্রকাশ্যে আসার পর জল্পনা আরও বেড়ে যায়। যদিও সে সময় অভিষেকের এই দাবি প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। এমনকী সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিও করেছিলেন তিনি। এবার মেদিনীপুরের সভা থেকে অভিষেক ফের একই দাবি করায় নতুন করে শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক।