Abhishek Banerjee: 'মাথানত করব না!' পুরসভার 'বুলডোজার'-নোটিস নিয়ে লড়াই জারির বার্তা অভিষেকের

Abhishek Banerjee: মঙ্গলবার কালীঘাটে দলের নবনির্বাচিত ও বিদায়ী বিধায়কদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলতার নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে এই বৈঠকেই নিজের বাড়ি ভাঙার নোটিস নিয়ে প্রথমবার সোচ্চার হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Updated on: May 19, 2026 7:38 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Abhishek Banerjee: রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার কলকাতা পুরসভার স্ক্যানারে উঠে এল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি। সোমবার থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তাঁর দুই 'ডেরা'। একটি, হরিশ মুখার্জি রোডের ১৮৮এ নম্বর ঠিকানা, ‘শান্তিনিকেতন।’ অন্যটি ১২১ কালীঘাট রোডের বাড়ি। আর এর নেপথ্যের রয়েছে কলকাতা পুরসভার পাঠানো জোড়া নোটিস। কলকাতা পুর আইনের ৪০০(১) ধারায় পাঠানো নোটিসে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, যদি কোনও বেআইনি নির্মাণ হয়ে থাকে তবে তা আগামী সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে অথবা কেন সেই নির্মাণ করা হয়েছে, তার যথাযথ কারণ দেখাতে হবে। সেই নোটিস পেয়েই বুলডোজার চলার হুঁশিয়ারি নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (@AITCofficial X)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (@AITCofficial X)

কী বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়?

মঙ্গলবার কালীঘাটে দলের নবনির্বাচিত ও বিদায়ী বিধায়কদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলতার নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে এই বৈঠকেই নিজের বাড়ি ভাঙার নোটিস নিয়ে প্রথমবার সোচ্চার হন অভিষেক। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ সাফ জানান, ‘ওরা যা খুশি করুক। আমার বাড়ি ভেঙে দিক, নোটিস পাঠাক। আমি এসবের কাছে কোনও অবস্থাতেই মাথা নত করব না।’ একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, এমন মানসিকতার মুখ্যমন্ত্রী বাংলা আগে কখনও দেখেনি। পাশাপাশি, দলের বিধায়কদের সামনে নিজের অনড় মনোভাব স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘যা-ই হয়ে যাক না কেন, বিজেপির এই প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে আমার লড়াই চলতেই থাকবে।’

বৈঠকে শুধু পুরসভার নোটিস নিয়েই ক্ষোভপ্রকাশ করেননি অভিষেক, নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীদের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, ‘আমাদের রাজ্যে এর আগে অনেক মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু বর্তমান জনের মতো কুৎসিত মানসিকতার মানুষ কেউ ছিলেন না। যাকে প্রকাশ্য ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে (নারদ কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে), আজ তাকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বানানো হয়েছে!’

নজরে ১৭টি সম্পত্তি ও ডেডলাইন

হরিশ মুখার্জি রোডের প্রাসাদোপম বহুতল ‘শান্তিনিকেতন।’ রাজ্যের প্রায় সকলেই সেই প্রাসাদের সঙ্গে পরিচিত। ওই বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও তিলজলা ও বালিগঞ্জ মিলিয়ে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে তাঁর। ১২১ কালীঘাট রোডে রয়েছে আরও একটি বাড়ি। যদিও সেটা অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। যদিও কালীঘাট রোডের ওই বাড়ি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সম্পত্তি দেখানো হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, বর্তমানে অভিষেকের মোট ১৭টি সম্পত্তি তাঁদের স্ক্যানারে রয়েছে। তবে ভবানীপুর বিধানসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১২১, কালীঘাট রোড এবং ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে পুরসভার তরফে পাঠানো হয়েছে নোটিস। বলা হয়েছে, ওই দুই ঠিকানায় যে নির্মাণ রয়েছে তাতে প্ল্যান-বহির্ভূত কিছু অংশ রয়েছে। ৭ দিনের মধ্যে সেই অংশ ভেঙে ফেলতে হবে। যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের উদ্যোগে তা না করেন, সেক্ষেত্রে পুরসভা ভেঙে দেবে। অর্থাৎ অভিষেকের বাড়িতে চলবে বুলডোজার।

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই যেভাবে নতুন সরকার একের পর এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার ডেরায় পুরসভার নোটিস পাঠাচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয়েছে। তবে পুরসভার এই ‘বুলডোজার নীতি’র সামনে অভিষেক যে আইনি ও রাজনৈতিক ভাবে পাল্টা লড়াইয়ের মেজাজেই রয়েছেন, মঙ্গলবার তাঁর বার্তাই স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।