Abhishek Banerjee: অভিষেককে ঘিরে কী লুকিয়ে আছে? সব মামলার রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের
রাজ্যের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলি মামলা রয়েছে, সেই তথ্য আদালতে জমা দিতে পুলিশকে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইতিমধ্যেই রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে যখন, তখন তদন্তে সহযোগিতা করতে অসুবিধা কোথায়—সেই প্রশ্নও তুলেছে আদালত।
Abhishek Banerjee: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলি মামলা রয়েছে, সেই তথ্য আদালতে জমা দিতে পুলিশকে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইতিমধ্যেই রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে যখন, তখন তদন্তে সহযোগিতা করতে অসুবিধা কোথায়—সেই প্রশ্নও তুলেছে আদালত।

বুধবার হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী জানান, তিনি একজন রাজনৈতিক নেতা। তাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন থানার পুলিশ বারবার তলব করছে বলেও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। আইনজীবীর দাবি, এভাবে বারবার ডেকে পাঠানোর ফলে অযথা হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে অভিষেকের।
এই বক্তব্যের পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, আদালত যখন ইতিমধ্যেই তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছে, তখন তদন্তকারী সংস্থার ডাকে সাড়া দিতে সমস্যা কোথায়? বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আদালতের দেওয়া সুরক্ষা বলবৎ থাকায় তদন্তে সহযোগিতা করা উচিত। একইসঙ্গে তিনি বলেন, মামলাগুলির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
শুনানির সময় মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এফআইআর দায়ের হচ্ছে। আদালতের সামনে তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত অন্তত আটটি মামলা রয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা কত, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সেই কারণেই বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া সমস্ত মামলার তালিকা আদালতে জমা দেওয়ার আর্জি জানানো হয়।
এরপরই বিচারপতি রাজ্য পুলিশকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় কতগুলি মামলা রয়েছে, কী অভিযোগে সেই মামলাগুলি দায়ের হয়েছে এবং তদন্তের বর্তমান অবস্থা কী—তার বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তৎকালীন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা দায়ের হওয়ায় তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই সময় বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা তাঁকে একটি রক্ষাকবচ প্রদান করেছিলেন। পাশাপাশি আবেদন করা হয়েছিল, ভবিষ্যতে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন কোনও এফআইআর দায়ের করার আগে আদালতের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হোক।
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার প্রায় একই ধরনের আবেদন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং পুলিশি তলবের মাধ্যমে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে।
তবে বুধবারের শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আদালতের দেওয়া রক্ষাকবচ কার্যকর থাকলে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে কোনও বাধা থাকার কথা নয়। একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরার নির্দেশে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে রাজনৈতিক ও আইনি মহলের নজর আরও বেড়ে গেল।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


