Abhishek Banerjee Sevashray Update: সেবাশ্রয় বিতর্কে বাড়ল চাপ, অভিষেকের বিরুদ্ধে এবার বিষ্ণুপুর থানায় নয়া এফআইআর

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করলেন ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সেবাশ্রয় ও সেবাশ্রয়-২ শিবির পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক আইন ভঙ্গ করা হয়েছে।

Published on: Jul 5, 2026, 14:06:44 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরকে ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের করলেন ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, সেবাশ্রয় ও সেবাশ্রয়-২ শিবির পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক আইন ভঙ্গ করা হয়েছে। পাশাপাশি জনস্বার্থ এবং রোগীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তাও লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ।

দাবি করা হয়েছে, সেবাশ্রয় ও সেবাশ্রয়-২ শিবির পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক আইন ভঙ্গ করা হয়েছে। (PTI)
দাবি করা হয়েছে, সেবাশ্রয় ও সেবাশ্রয়-২ শিবির পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক আইন ভঙ্গ করা হয়েছে। (PTI)

অভিযোগপত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তাঁর আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়, বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল, ফলতার জাহাঙ্গির খান-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই শিবিরগুলির পরিকল্পনা, আয়োজন, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নে তাঁদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। সেই কারণে প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

ববির অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারা, অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১৭ নম্বর ধারা, পিসিপিএনডিটি (PCPNDT) আইনের ২৩(১), ২৩(২) ও ২৫ নম্বর ধারা, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি) অ্যাক্টের ৩৪ নম্বর ধারা, পশ্চিমবঙ্গ ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্টের ৪১ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন জনসভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেবাশ্রয় শিবিরের আয়োজনের কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, তিনি নিজেই এই কর্মসূচির পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং তদারকির দায়িত্বে থাকার কথা জানিয়েছেন। তাই এই গোটা প্রকল্পের নেপথ্যে কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিষেকের আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায় প্রশাসনিকভাবে শিবিরগুলির আয়োজন ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে শিবির পরিচালনায় বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল, জাহাঙ্গির খান, শামিম আহমেদ, বাবান গাজি-সহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে এই বিতর্কে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, কার নির্দেশে স্বাস্থ্য দফতরের কোন আধিকারিক বা কর্মীরা সেবাশ্রয় শিবিরে উপস্থিত ছিলেন এবং সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা কী ছিল, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা এলাকায় পর্যায়ক্রমে শুরু হয়েছিল ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য পরিষেবা শিবির। সেখানে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি, ইকো-কার্ডিওগ্রাফি, এক্স-রে-সহ বিভিন্ন চিকিৎসা পরীক্ষা করা হত। অভিযোগ উঠেছে, রেডিয়েশন নির্গত হয় এমন একাধিক যন্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় রেডিয়েশন সেফটি অপারেশন লাইসেন্স ছিল না। অথচ সেই যন্ত্র ব্যবহার করেই পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

এছাড়াও পিসিপিএনডিটি আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই গর্ভবতী মহিলাদের আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বেআইনিভাবে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগের কথা সামনে এসেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। এই নতুন অভিযোগ দায়েরের ফলে সেবাশ্রয় বিতর্ক নতুন মোড় নিল। একদিকে স্বাস্থ্য দফতরের তদন্ত, অন্যদিকে পুলিশের কাছে দায়ের হওয়া অভিযোগ—দুই দিক থেকেই এখন নজর থাকবে তদন্তের অগ্রগতির উপর। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগের কতটা সত্যতা প্রমাণিত হয়, সেটাই এখন দেখার।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More