ডায়মন্ড হারবারে ১ কোটি টাকা উদ্ধার নিয়ে অভিষেকের অভিযোগ- ‘বিজেপি সাজিয়ে রেখেছে’, শুভেন্দুর তোপ, ‘এটা তো নস্যি’

ডায়মন্ড হারবারে রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয়েছে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। আর সেই বিপুল নগদ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি সংঘাতে জড়ালেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Published on: Nov 5, 2026, 08:26:41 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ডায়মন্ড হারবারে মমতাপন্থী তৃণমূলের কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয়েছে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। আর সেই বিপুল নগদ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি সংঘাতে জড়ালেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে অভিষেকের অভিযোগ, ছয় মাস আগে বিজেপির হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে টাকা রেখে পুলিশি তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে। অন্যদিকে শুভেন্দুর দাবি, উদ্ধার হওয়া এই টাকা দুর্নীতির বিশাল সাম্রাজ্যের সামান্য অংশ মাত্র। রাজ্যের রাজস্ব লুট করে সেই টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে ডায়মন্ড হারবারের একটি কার্যালয় থেকে নগদ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বঙ্গ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন চাপানউতোর।

ডায়মন্ড হারবারে মমতাপন্থী তৃণমূলের কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয়েছে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা (PTI)
ডায়মন্ড হারবারে মমতাপন্থী তৃণমূলের কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয়েছে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা (PTI)

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, ৪ নভেম্বর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সরিষা এলাকায় একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। কার্যালয়টি মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদের বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে খবর। ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মজুমদারও নগদ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, জমি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের মামলায় ধৃত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই টাকার সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর তাঁকে নিয়ে ওই জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। তবে উদ্ধার হওয়া টাকার প্রকৃত উৎস এবং কার মালিকানাধীন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই ঘটনায় মুখ খুলেই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ছয় মাস আগে বিজেপির দুষ্কৃতীদের হামলায় যে সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়েছিল, পরবর্তীতে সেটিকেই পুলিশ তদন্তের স্বার্থে অপরাধস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে। আর এবার সেখানে পরিকল্পিতভাবে ভুয়ো ও জাল প্রমাণ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ন্যায়বিচারকে বাধা দেওয়া, পুলিশি তদন্তকে প্রভাবিত করা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। যারা এই ঘটনার পরিকল্পনা করেছে এবং নির্দেশ দিয়েছে, প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে দায়বদ্ধ থাকতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ।

অন্যদিকে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া এক কোটি টাকা দুর্নীতির তুলনায় কিছুই নয়। তাঁর কথায়, এই টাকা অভিযুক্তদের কাছে নস্যির সমান। একাধিক সংস্থা, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা এবং বেনামে জমি কেনার মাধ্যমে আরও বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শুভেন্দুর আরও দাবি, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩৭ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৩৩ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে। অথচ নতুন করে কোনও পাথর বা বালিখাদান নিলাম হয়নি। তাহলে এই অতিরিক্ত টাকা আগে কোথায় যেত, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের এক সদস্য এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে রাজ্যের রাজস্বের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

পাশাপাশি আমফানের ত্রাণ, সেবাশ্রয় প্রকল্প, তোলাবাজি, চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া এবং সরকারি জমি দখলের মতো একাধিক অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু। সঠিক সময়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সব মিলিয়ে, একদিকে অভিষেকের ষড়যন্ত্র ও প্রমাণ সাজানোর অভিযোগ, অন্যদিকে শুভেন্দুর রাজস্ব লুট ও বিদেশে টাকা পাচারের দাবি—দুই শিবিরের সংঘাতে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। তবে উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, মালিকানা এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এখন তদন্তের গতিপ্রকৃতির দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More