Bayron Biswas praises Adhir Chowdhury: 'আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি!' অধীরকে 'গুরু' মেনে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি TMC প্রার্থীর
Bayron Biswas praises Adhir Chowdhury: বছর তিনেক আগে উপনির্বাচনে জিতে বায়রন বিশ্বাসের তিন মাসের মাথায় দলবদলের সিদ্ধান্ত সাগরদিঘির মানুষ যে একদমই মেনে নিতে পারেনি সেটা তাঁর বোঝার বাকি ছিল না, তাই এবার ভোটগ্রহণের আগে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সাগরদিঘির বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী।
Bayron Biswas praises Adhir Chowdhury: বঙ্গ রাজনীতিতে বইছে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের গরম হাওয়া। কোন দল এবার সরকার গঠনের লড়াইয়ে শীর্ষে থাকবে তাই নিয়ে চলছে তর্ক বিতর্ক। এমতাবস্থায়, মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির রাজনীতি নিয়ে নির্বাচনের পাঁচদিন আগে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কংগ্রেসত্যাগী তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। শুধু তাই নয়, তিনি এটাও মানলেন যে, কংগ্রেস ছেড়ে অধীর চৌধুরীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। রাজনীতির ময়দানে কংগ্রেস নেতাকেই নিজের গুরু বলেও স্বীকার করলেন। পাল্টা জবাব দিলেন অধীর চৌধুরীও।

তিন মাসের মাথায় দলবদল
একুশের নির্বাচনে সাগরদিঘিতে জিতেছিলেন তৃণমূলের সুব্রত সাহা। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি মারা যান। তাঁর অকালপ্রয়াণের জন্য সাগরদিঘিতে উপনির্বাচন হয়েছিল। এরপর সবাইকে অবাক করে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বায়রন বিশ্বাস মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে জিতেছিলেন। কারণ রাজ্যজুড়ে যেখানে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস দাপটের সঙ্গে রাজত্ব চালাচ্ছে সেখানে দাঁড়িয়ে বাইরনের সেই জয় ছিল দ্বিমেরু রাজনীতিতে বাম-কংগ্রেস সমর্থকদের এক আশার আলো। কিন্তু সবকিছু মুহূর্তে পাল্টে গেল মাত্র তিন মাসের মাথায়। দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতথেকে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে শাসকদলে যোগ দেন বায়রন। এর জন্য কম কটাক্ষ শুনতে হয়নি বায়রনকে। এবার সেই নিয়ে নিজের মুখেই দুঃখপ্রকাশ করলেন তিনি।
কী বলছেন বায়রন বিশ্বাস?
বছর তিনেক আগে উপনির্বাচনে জিতে বায়রন বিশ্বাসের তিন মাসের মাথায় দলবদলের সিদ্ধান্ত সাগরদিঘির মানুষ যে একদমই মেনে নিতে পারেনি সেটা তাঁর বোঝার বাকি ছিল না, তাই এবার বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সাগরদিঘির বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকেই তিনি বলেন, 'আমি স্বার্থপর। আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। আমি বলব না যে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। কংগ্রেস থেকে টিকিট পেয়েছিলাম। আমার হাতেখড়ি অধীররঞ্জন চৌধুরীর হাতে। তাঁকে সারাজীবন মনে রাখব। উনি আমার গুরুদেব। ভগবানের পরে অধীর চৌধুরীর স্থান। দাদা বলে শ্রদ্ধা করি। উনি বড় হয়ে ছোট ভাইকে কিছু বলতে পারেন। তাতে আমার দুঃখ নেই। বরং আনন্দ পাই।' পাশাপাশি, এবারের নির্বাচনে সাগরদিঘিতে নিজের জয়ের ব্যাপারে বায়রন আত্মবিশ্বাসী হলেও বলছেন, 'সবাই জয়ী হতে চায়। সবাই আশা নিয়ে নামে। কিন্তু, সামাজিক পরিষেবা দিতে হবে। আমার চেয়ে যদি কেউ ভালো পরিষেবা দিতে পারেন, তবে তাঁকে জয়ী করুন।'
পাল্টা জবাব অধীর চৌধুরীর
এদিকে, বায়রন বিশ্বাস বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলে স্বীকার করার পর খোঁচা দিলেন তাঁর ‘গুরু’ অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, 'আমার তো কিছু আর বলার নেই। নিজেই স্বীকার করছে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এখন সেই বিশ্বাসঘাতকের সঙ্গে কীরকম ব্যবহার করা উচিত, সাধারণ মানুষ ঠিক করবে। আমি এইটুকু বলতে পারি প্রার্থী হিসেবে সাগরদিঘিতে মনোজ চক্রবর্তীর তুলনা হয় না। এইটুকু বলতে পারি।'
প্রসঙ্গত, অধীর চৌধুরীর সঙ্গে বায়রন বিশ্বাসের সুসম্পর্কের কথা গোটা সাগরদিঘি জানে। এমনকী বায়রন বিশ্বাস তৃণমূলে যোগদান করার পরও কম বেশি তাঁর প্রশংসা করেছিলেন অধীর। অনেকে আবার এও মনে করছেন যে বায়রনের সঙ্গে সুসম্পর্কের জেরেই অধীর চৌধুরী নাকি সাগরদিঘির মতো সংখ্যালঘু আসনে হিন্দু ব্রাহ্মণ মনোজ চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছেন যাতে বায়রনের লড়াইটাই সহজ হয়। যদিও সে কথা মানতে নারাজ অধীর। এখন দেখার সাগরদীঘির বুকে ভবিষ্যতে কে রাজত্ব করতে চলেছে।
E-Paper

