Adani interested in Darjeeling Ropeway: কার্শিয়ং-দার্জিলিং রোপওয়ের প্রস্তাব, আদানিদের আগ্রহে পাহাড়ে নতুন সম্ভাবনা

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোপওয়ের প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৮০০ থেকে ১৮০০ জন যাত্রী পরিবহণ করা সম্ভব হতে পারে। সড়কপথে কার্শিয়ং থেকে দার্জিলিং যেতে যে সময় লাগে, রোপওয়ে চালু হলে তার তুলনায় অনেক কম সময়ে যাত্রা সম্পূর্ণ করা যেতে পারে বলে দাবি সূত্রের।

Published on: Sep 25, 2026, 10:37:32 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে এবার যুক্ত হতে পারে নতুন এক যোগাযোগ ব্যবস্থা। কার্শিয়ং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রোপওয়ে তৈরির প্রস্তাব নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আদানি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গৌতম আদানির প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রের খবর।

প্রস্তাবিত রোপওয়ের দৈর্ঘ্য হতে পারে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার
প্রস্তাবিত রোপওয়ের দৈর্ঘ্য হতে পারে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার

সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত রোপওয়ের দৈর্ঘ্য হতে পারে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার। তবে এখনও পর্যন্ত প্রকল্পের কোনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। কোথা থেকে রোপওয়ে শুরু হবে, কোথায় কোথায় স্টেশন তৈরি হবে, কী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, কত টাকা বিনিয়োগ লাগবে কিংবা নির্মাণের সময়সীমাই বা কত হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সরকারি স্তরে প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পরই নিয়ম মেনে টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা যাচ্ছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোপওয়ের প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৮০০ থেকে ১৮০০ জন যাত্রী পরিবহণ করা সম্ভব হতে পারে। সড়কপথে কার্শিয়ং থেকে দার্জিলিং যেতে যে সময় লাগে, রোপওয়ে চালু হলে তার তুলনায় অনেক কম সময়ে যাত্রা সম্পূর্ণ করা যেতে পারে বলে দাবি সূত্রের।

কার্শিয়ং থেকে দার্জিলিং যাওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে পর্যটকদের মূলত পাহাড়ি সড়কের উপর নির্ভর করতে হয়। হিল কার্ট রোড-সহ বিভিন্ন পথে যান চলাচল করে। পর্যটনের মরসুমে সেই রাস্তা ব্যস্ত হয়ে ওঠে। ফলে যানজটের পাশাপাশি যাত্রার সময়ও বেড়ে যায়। সেই জায়গায় রোপওয়ে চালু হলে সড়কপথের উপর চাপ কমানোর একটি বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।

শুধু যাতায়াতের সময় কমানো নয়, পাহাড়ি এলাকায় যানবাহনের সংখ্যা কমলে দূষণের মাত্রা কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি রোপওয়েকে কেন্দ্র করে কার্শিয়ং এবং তার আশপাশের এলাকায় নতুন পর্যটন পরিষেবা গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে। হোটেল, রেস্তরাঁ, পরিবহণ এবং স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রোপওয়ে নির্মাণের ক্ষেত্রে আদানি গোষ্ঠীর অভিজ্ঞতার কথাও সামনে আসছে। উত্তরাখণ্ডে শোনপ্রয়াগ থেকে কেদারনাথ পর্যন্ত প্রস্তাবিত রোপওয়ে প্রকল্পের সঙ্গেও আদানি গোষ্ঠীর নাম যুক্ত রয়েছে। ওই প্রকল্পের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২.৯ কিলোমিটার এবং আনুমানিক ব্যয় ৪ হাজার ৮১ কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছে। সেখানে দীর্ঘ ট্রেকের বদলে রোপওয়ের মাধ্যমে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দার্জিলিংয়ের ক্ষেত্রেও রোপওয়ে প্রকল্পের প্রস্তাব সামনে এসেছে বলে সূত্রের খবর। তবে পাহাড়ি এলাকায় এমন বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশ, জমি, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত নানা বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবে কতটা এগোয়, তার জন্য এখন সরকারি অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ার দিকেই নজর।

প্রস্তাবিত এই রোপওয়ে বাস্তবায়িত হলে কার্শিয়ং শুধু দার্জিলিং যাওয়ার পথের একটি শহর হয়ে থাকবে না, পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবেও নতুন গুরুত্ব পেতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ পাবে কি না, তা নির্ভর করছে প্রকল্পের পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের উপর।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More