Kolkata New Metro Route Update: ১৬ বছরের জট কাটিয়ে বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পে আশার আলো, কাজ শেষ হবে কবে?

ইতিমধ্যেই প্রকল্পের জন্য দরপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইআইটি খড়গপুরকে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

Published on: Jul 30, 2026, 09:14:20 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Kolkata New Metro Route Update: বদলেছে রাজ্যের সরকার, আর তার পরেই দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা একাধিক পরিকাঠামো প্রকল্পে গতি ফেরানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সেই তালিকায় এবার উঠে এল বহু প্রতীক্ষিত বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের নাম। দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর ধরে কার্যত স্থবির হয়ে থাকা এই প্রকল্পে জট কাটতে চলেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের জন্য দরপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইআইটি খড়গপুরকে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বহু প্রতীক্ষিত বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের জট কাটার সম্ভাবনা
বহু প্রতীক্ষিত বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের জট কাটার সম্ভাবনা

বরাহনগর থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত এই মেট্রো করিডরের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১২.৫ কিলোমিটার। পুরো রুটে মোট ১০টি স্টেশন প্রস্তাব করা হয়েছে। স্টেশনগুলি হল বরাহনগর, কামারহাটি, আগরপাড়া, পানিহাটি, সোদপুর, খড়দহ, টাটা গেট, টিটাগর, তালপুকুর এবং ব্যারাকপুর। এই করিডর চালু হলে উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকার লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের ইতিহাসও যথেষ্ট দীর্ঘ। ২০১০ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম বরাহনগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। পরের বছর, অর্থাৎ ২০১১ সালে বিটি রোড সংলগ্ন এলাকায় প্রাথমিক কিছু কাজ ও নথিপত্রের অগ্রগতি হলেও পরে প্রকল্পটি আর এগোয়নি। মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই কার্যত থেমে যায় গোটা পরিকল্পনা। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ১৬ বছর। এই সময়ে একাধিকবার প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে কাজ এগোয়নি।

প্রকল্পটি প্রথম ঘোষণার সময় এর জন্য প্রায় ২,০৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ থাকায় এখন প্রকল্পের ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও নতুন করে ব্যয়ের হিসাব এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্রের খবর, প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বিটি রোডের নীচ দিয়ে যাওয়া বিশাল জল সরবরাহের পাইপলাইন। কলকাতা পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় মোট ছয়টি বড় পাইপলাইন রয়েছে। এগুলির ব্যাস যথাক্রমে ৪২, ৪৮, ৬০, ৬২, ৬৪ এবং ৭২ ইঞ্চি। এই পাইপলাইনগুলির মাধ্যমে পলতা জল প্রকল্প থেকে প্রতিদিন প্রায় ২৪ কোটি গ্যালন জল টালা জলাধারে পৌঁছায়। সেখান থেকে উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতার একাংশ এবং সল্টলেকের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। ফলে এই পাইপলাইনগুলিতে সামান্য সমস্যা হলেও শহরের জল পরিষেবায় বড় প্রভাব পড়তে পারে।

এই জটিল সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আইআইটি খড়গপুরের বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা ইতিমধ্যেই সমীক্ষার কাজ শুরু করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অত্যাধুনিক মাইক্রো টানেলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে মাটির নীচে বিকল্প জল সরবরাহের পাইপলাইন বসানো হবে। তার পর ধাপে ধাপে মেট্রো নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, যাতে জল সরবরাহে কোনও বিঘ্ন না ঘটে।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এই প্রকল্পে নতুন করে গতি ফেরার সম্ভাবনায় উত্তর শহরতলির বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। বরাহনগর থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিটি রোডের যানজটে নাকাল হন। মেট্রো পরিষেবা চালু হলে শুধু যাতায়াতের সময়ই কমবে না, গোটা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ কত দ্রুত এগোয়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More