Sarada Case: দীর্ঘ ১৩ বছর পর শাপমোচন! জেলমুক্তির পথে সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন, কবে পাবেন ছাড়া?

Sarada Case: মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য পুলিশ এবং সিবিআই - উভয় পক্ষকেই কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করে।

Published on: Apr 08, 2026 5:05 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Sarada Case: ২০১৩ সালের মার্চ মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের সোনমার্গ থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। অবশেষে দীর্ঘ ১৩ বছর পর কারামুক্ত হতে চলেছেন কয়েকশো কোটি টাকার চিটফান্ড কেলেঙ্কারির অভিযোগে বিদ্ধ সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন। বুধবার আইনি জট কেটে যাওয়ায় তাঁর জেল থেকে বেরোনোর ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা রইল না। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে স্বস্তি পেলেন তিনি। সব ঠিক থাকলে সম্ভবত বৃহস্পতিবারই জেল থেকে মুক্তি পাবেন সুদীপ্ত সেন।

জেলমুক্তির পথে সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন
জেলমুক্তির পথে সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন

গত ১২ বছর ১১ মাস ১৫ দিন ধরে হেফাজতে রয়েছেন সুদীপ্ত সেন। সারদার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পাহাড়প্রমাণ মামলার জালে গত এক দশক ধরে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। তাঁর আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারদার বিরুদ্ধে মোট ৩৮৯টি মামলা দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই যে মামলাগুলি হাতে নিয়েছিল, তাতে অনেক আগেই জামিন পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা ৩০৮টি মামলা। একের পর এক মামলায় জামিন মিললেও শেষ পর্যন্ত বারাসত থানার দুটি মামলায় আটকে ছিল সুদীপ্ত সেনের মুক্তি। সেই দুটি মামলাতেও জামিন মঞ্জুর করেছে বিচারপতি রাজর্ষী ভরদ্বাজ ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে সুদীপ্ত সেনের জেল থেকে বেরোনোর কোন আইনি বাধা রইল না। যদিও জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালত বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছেন সুদীপ্ত সেন।

মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য পুলিশ এবং সিবিআই - উভয় পক্ষকেই কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০১৪ সালে চার্জশিট জমা দেওয়ার পরেও কেন এক দশকে বিচার প্রক্রিয়া বা ট্রায়াল শুরু করা গেল না? উচ্চ আদালত স্পষ্ট জানায়, ট্রায়াল শেষ না করে এভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাউকে জেলবন্দি করে রাখা যায় না। বিচারপতির মতে, অভিযুক্ত জামিন পেলে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের সুবিধাই হবে। সিবিআই-এর আইনজীবীর ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে ডিভিশন বেঞ্চ। ট্রায়াল শেষ করার দায় যে কেন্দ্রীয় সংস্থার ওপর বর্তায়, তা মনে করিয়ে দিয়ে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, 'শুধুমাত্র জামিন পেয়ে যাওয়াটাই কী সব? বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার দায় কি আপনাদের নেই?' কলকাতা হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থানের পরেই সুদীপ্ত সেনের জামিনের পথ প্রশস্ত হয়।

২০১৩ সালের মার্চ মাসে উত্তর ভারত থেকে গ্রেফতার হন সুদীপ্ত সেন এবং সঙ্গে দেবযানী মুখোপাধ্যায়। বিধাননগর থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সুদীপ্ত সেনের জীবন কেটেছে গারদের ওপারেই। এই দীর্ঘ সময়ে সারদা মামলা নিয়ে রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় হয়েছে বারবার। আমানতকারীদের চোখের জল আর রাজনৈতিক টানাপড়েনের সাক্ষী থেকেছে গোটা বাংলা। ১৩ বছর পর যখন সেই সারদাকর্তা মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নিতে চলেছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে - কয়েক হাজার আমানতকারীর টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া এবার কোন গতি পায়।