West Bengal State University: যাদবপুরের রেশ বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ে! TMCP-ABVP সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, জখম একাধিক
West Bengal State University: ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দত্তপুকুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
West Bengal State University: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের টানা উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই ধরনের হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হল বারাসতের ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটিতে (WBSU)। রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানের আয়োজন ঘিরে এবিভিপির (ABVP) সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP)। দু’পক্ষের হামলা-পালটা হামলায় এবিভিপির দুই সদস্য আহত হন বলে জানা গিয়েছে। গলায়, ঘাড়ে আঘাত নিয়ে তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি। এর নেপথ্যে ঘাসফুল শিবিরের ‘জঙ্গিপনা’র অভিযোগ তুলেছে গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠন। তাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন জঙ্গিদের মতো কার্যকলাপ চলবে, সেখানে ঘরে ঢুকে শিক্ষা দেওয়া হবে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য আসে দত্তপুকুর থানার পুলিশ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এমএ প্রথম বর্ষের এক ছাত্রকে ঘিরে। এবিভিপির অভিযোগ, কথা বলার অছিলায় অরূপ বিশ্বাস নামে ওই ছাত্রকে হস্টেলে ডেকে মারধর করা হয়। এই ঘটনায় আলতাফ নামে টিএমসিপির এক সদস্যের নাম উঠে আসে। এদিকে, খবর পেয়েই এবিভিপির ছাত্ররা হস্টেলে পৌঁছয়। মারধরে বাধা দিতে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এবিভিপির বারাসত নগর সম্পাদক প্রীতম পাঠকের অভিযোগ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ প্রথম বর্ষের ছাত্র অরূপ বিশ্বাসকে কথা বলার নাম করে ডেকে নিয়ে টিএমসিপির এক কর্মী মারধর করেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই এবিভিপির কয়েকজন ছাত্র হস্টেলে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে বলে দাবি তাঁর। সেই সময় দুই ছাত্র অরূপ বিশ্বাস ও অভিষেক পালের বুকে এবং কপালে ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ ওই এবিভিপি নেতার।
প্রীতমের আরও বক্তব্য, 'আসলে আমরা এখানে একটা রাখিবন্ধন উৎসবের আয়োজন করছিলাম। তার জন্য প্রয়োজনীয় অনুদানের আবেদনে ভিসি স্যর (উপাচার্য) সই করে দিয়েছেন। এতেই ওদের আপত্তি। বলছে, এবিভিপি কেন রাখির জন্য টাকা পাবে? কেন টিএমসিপি পাবে না? এই নিয়েই ওরা আমাদের উপর চড়াও হয়।' অন্যদিকে, টিএমসিপির গিয়াস আলি ও রহমত মণ্ডলের অভিযোগ, এবিভিপির কর্মীরাই বিনা প্ররোচনায় হস্টেলে ঢুকে ছাত্রদের মারধর করেন এবং ভাঙচুর চালান। তাঁদের বক্তব্য, 'আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র। কোনও দলে নেই। ওরাই (এবিভিপি) হস্টেলে ঢুকে আমাদের মারধর করেছে। আমাদের ১০-১২ জন ছাত্র জখম হয়েছে।' এ নিয়ে বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে এবিভিপির ছাত্রদের মারধর করেছে।'
এদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দত্তপুকুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই পুলিশের কাছে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। ঠিক কী কারণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার জে মার্সি বলেন, 'কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছে, তা ভাইস চ্যান্সেলরের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।'
E-Paper

