TMC Split Symbol and Name Update: জোড়াফুল হাতছাড়া, নতুন নাম-প্রতীকে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, মমতার দলের নাম কী হবে?

অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের পরিচিত ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির।

Published on: Sep 18, 2026, 11:48:47 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের পরিচিত ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির। কমিশন জানিয়েছে, চলতি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষই মূল দলের নাম ও সংরক্ষিত প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই গোষ্ঠীকে শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে নিজেদের পছন্দের তিনটি নাম এবং তিনটি করে মুক্ত প্রতীকের তালিকা জমা দিতে বলা হয়।

নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের পরিচিত ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত ফ্রিজ হয়েছে (Mamata Banerjee social media)
নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের পরিচিত ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত ফ্রিজ হয়েছে (Mamata Banerjee social media)

এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের পর কালীঘাটের পক্ষে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি না করার আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। কমিশনের যুক্তি, আসন্ন উপনির্বাচনের আগে দলীয় বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করার মতো পর্যাপ্ত সময় নেই। তাই দুই পক্ষকে সমান সুযোগ দিতে আপাতত মূল নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে মমতা শিবিরও বিকল্প নাম ও প্রতীকের তালিকা কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে বলে সূত্রের দাবি। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কালীঘাটের পক্ষ থেকে তিনটি সম্ভাব্য নাম ও তিনটি প্রতীকের পছন্দ জানানো হয়েছে। বিকল্প নামের মধ্যে ‘ম’ অক্ষর রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও সূত্রের দাবি। একই সঙ্গে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে মমতার পক্ষ থেকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও খোলা রাখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা শিবিরও নিজেদের বিকল্প পরিচয়ের জন্য নাম ও প্রতীকের পছন্দ জমা দিয়েছে। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য নাম হিসেবে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতীকের ক্ষেত্রে ব্ল্যাকবোর্ড এবং টর্চের মতো চিহ্নের পছন্দের কথাও উঠে এসেছে। তবে এগুলির কোনটি শেষ পর্যন্ত বরাদ্দ হবে, তা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

নির্বাচন কমিশনের কাছে বর্তমানে ১৮৪টি মুক্ত প্রতীকের তালিকা রয়েছে। দুই পক্ষকেই সেই তালিকা থেকে প্রতীক বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে বলা হয়েছে, দুই গোষ্ঠী চাইলে নতুন দলের নামের সঙ্গে তাদের পুরনো ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ দলের সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখ রাখতে পারবে। ফলে ‘তৃণমূল’ শব্দটি নতুন নামের মধ্যে রাখার সুযোগ দুই পক্ষেরই রয়েছে।

এই ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তন। ১৯৯৮ সালে দল প্রতিষ্ঠার সময় ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীকটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলের পরিচয়ের অন্যতম প্রধান প্রতীক হয়ে ওঠে। ২৮ বছর পর আসন্ন উপনির্বাচনে সেই প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না কোনও পক্ষই।

এই বিরোধের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর। নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, তারা বর্তমানে তৃণমূলে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর দাবি বিবেচনা করছে এবং দলীয় নাম ও প্রতীকের চূড়ান্ত অধিকার নিয়ে পরে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তাই দুই শিবিরের নতুন নাম ও প্রতীকই এখন বড় রাজনৈতিক কৌতূহলের বিষয়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More