Calcutta High Court on Airport: 'নমাজের জন্য...,' বাঁকড়া মসজিদ মামলায় হাইকোর্টে জোরাল সওয়াল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের
Calcutta High Court on Airport: বুধবারের শুনানিতে সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় জানান, নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি নিয়ে ১৩ মে ২০২৬ তারিখে সিভিল এভিয়েশন থেকে বিমানবন্দরকে চিঠি দেওয়া হয়। ২৩ মে সমস্ত অংশীদারদের (Stakeholders) নিয়ে একটি বৈঠক হয়।
Calcutta High Court on Airport: নমাজের জন্য মসজিদ বাধ্যতামূলক নয়, বৃহত্তর স্বার্থে রাজ্যের জমি অধিগ্রহণে কোনও ধর্মস্থান বাধা হতে পারে না। মসজিদ মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) এমনই দাবি করলেন দমদম বিমানবন্দর (Kolkata Airport) কর্তৃপক্ষ।

কলকাতা বিমানবন্দরে কাছে ৪০-৫০ বছর ধরে রয়েছে মসজিদ। সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই নমাজ পড়ে আসেন মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষজন। তবে বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নিরাপত্তার ঝুঁকি হতে পারে। সেই কারণে ১১ জুলাই থেকে নমাজ পড়া বন্ধ। এরপরই একটি মসজিদে ধর্মাচরণের অনুমতি পেতে মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। বুধবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চে ছিল সেই মামলার শুনানি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী সৌমিন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'এয়ারপোর্ট পাবলিক ল্যান্ড। সেটি মসজিদ বা নমাজের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। যে কোনও জায়গায় নমাজ পড়া যেতে পারে। বিদেশের একাধিক জায়গায় এমন উদাহরণ আছে।' তিনি এও জানান, 'এই জমিটি অনেক আগেই অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ১৯৬১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি একটি বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এক জনস্বার্থে এই জমিটির প্রয়োজন ছিল।'
এরপরেই বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানতে চান, 'জমিটি কার কাছ থেকে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল?' উত্তর দিতে গিয়ে আইনজীবী সৌমিন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, 'স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এটি অধিগ্রহণ করা হয় এবং মসজিদের জন্যও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। ১৯৫৫ সালের মিউটেশন সার্টিফিকেটের মামলা ছিল এটি। সকলকে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল। যাতায়াতের সুবিধাও দেওয়া হয়েছিল। যে কেউ তাঁদের ধর্ম পালন করতে পারেন, কিন্তু কোনও একটি নির্দিষ্ট স্থানেই তা করবেন, এমন দাবি জানাতে পারেন না। যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত, সেখানে মৌলিক অধিকারের নিয়ম প্রযোজ্য হয় না।'
বুধবারের শুনানিতে সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় জানান, নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি নিয়ে ১৩ মে ২০২৬ তারিখে সিভিল এভিয়েশন থেকে বিমানবন্দরকে চিঠি দেওয়া হয়। ২৩ মে সমস্ত অংশীদারদের (Stakeholders) নিয়ে একটি বৈঠক হয়। বিমানবন্দরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাঁকড়া মসজিদ কমিটির সদস্যরাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জানানো হয়, উড়ানের ওঠা-নামায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বিমানের অবতরণ করতেও সমস্যা হচ্ছে। এরপর সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন যে বিমানবন্দরে প্রবেশের গেটটি ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হবে। এটি রাতারাতি করা হয়নি, তাঁদের বক্তব্য শোনা হয়েছিল। এখানে জাতীয় ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জড়িত, তাই কোনও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘এটি রাতারাতি করা হয়নি, সকলের বক্তব্য শোনা হয়েছিল। এখানে জাতীয় ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জড়িত, তাই কোনও অন্তর্বর্তিকালীন আদেশের প্রয়োজন নেই।’
সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় আরও বলেন, 'বৃহত্তর স্বার্থে ধর্মীয় স্থান গুরুত্বপূর্ণ নয়। এর আগে বিভিন্ন জায়গায় চার্চ, মন্দির জাতীয় সড়কের জন্য জমি নেওয়া হয়েছে। ফলে ধর্মীয়স্থানে জমি নেওয়া যায় রাজ্যের অধিকার আছে। ওই জমি রাজ্যের সেটা জানে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।' আইনজীবী এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। আদালতের কাছে তাঁর আর্জি, 'কোনও অন্তর্বতী নির্দেশ দেবেন না।' অন্যদিকে, এই মামলায় কেন্দ্রের আইনজীবী তথা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরজ ত্রিবেদী বলেন, 'সংবিধান অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণের সময় মসজিদ বলে আলাদা কোনও সুবিধা পায় না। রানওয়ে কাছে অবস্থিত এই মসজিদ। টপোগ্রাফি (ভৌগলিক অবস্থান) এমন যে, এখানে নমাজের অনুমতি দেওয়া যায় না। পিএমও অফিস থেকে ২০১৯-এ রিপোর্ট এসেছিল, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ এ ভাবে সম্ভব নয়।' সেই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, 'এখানে কোনও মসজিদকে মন্দির বা অন্য কিছুতে পরিবর্তন করা হচ্ছে না। মৌলিক অধিকার পাবলিক প্লেসে সব সময় প্রযোজ্য নয়। এটি কোনও হেরিটেজ নয়। রাজ্য ইতিমধ্যেই অধিগ্রহণ করেছে। সেটা গোপন করা হয়েছে। সম্প্রতি আরেকটা ৯/১১ হতে পারত। আটকানো গেছে ভারতীয় পাইলটের জন্য।' এদিকে, মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য, ‘১৩৬ বছর ধরে কোনও সমস্যা হয়নি। এখানে সকালে চেকিং করেই নমাজ পড়তে যেতেন সকলে।’ এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৯ অক্টোবর।
E-Paper

