Mahua Moitra: বলা যাবে না 'ভোট চোর', মুছতে হবে পুরনো পোস্ট! মুখ্যসচিবের মানহানির মামলায় মহুয়াকে বড় নির্দেশ আদালতের

Mahua Moitra: মামলার পর্যবেক্ষণে আলিপুর আদালত জানিয়েছে, মহুয়া মৈত্রের পোস্টগুলিতে শুধুমাত্র এসআইআর প্রক্রিয়ার সমালোচনা করা হয়নি, বরং মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে বেআইনি কাজের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কিন্তু এই ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে তিনি আদালতে উপযুক্ত কোনও প্রমাণ পেশ করতে পারেননি

Published on: Oct 15, 2026, 18:41:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Mahua Moitra: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision) বা এসআইআর-কে কেন্দ্র করে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে (Manoj Agarwal) নিয়ে করা মন্তব্যের জেরে এবার আইনি জটিলতায় তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে আলিপুর আদালতের (Alipore Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন মনোজ আগরওয়াল। সেই মামলায় আদালতের কড়া নির্দেশ, মহুয়া মৈত্রের সোশ্যাল মিডিয়ায় দু’টি পোস্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুছে ফেলতে হবে। লিখিতভাবে ক্ষমাও চাইতে হবে তাঁকে। পাশাপাশি, এরপর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোথাও মুখ্যসচিবকে নিয়ে এমন কোনও মানহানিকর মন্তব্য যাবে না।

মুখ্যসচিবের মানহানির মামলায় মহুয়া মৈত্রকে বড় নির্দেশ আলিপুর আদালতের (PTI)
মুখ্যসচিবের মানহানির মামলায় মহুয়া মৈত্রকে বড় নির্দেশ আলিপুর আদালতের (PTI)

গত ৩ ও ৬ অক্টোবর নিজের এক্স হ্যান্ডল পোস্টে রাজ্যের মুখ্যসচিব তথা রাজ্যের প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার (সিইও) মনোজ আগরওয়ালকে ‘ভোটচোর’ বলে কটাক্ষমূলক পোস্ট করেছিলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, এসআইআরের নামে প্রচুর ‘বৈধ’ ভোটারের নাম দেওয়া হয়েছে। এভাবে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে যাঁর নেতৃত্বে, তিনি তো ‘ভোটচোর।’ পোস্টে মহুয়া মৈত্রের বক্তব্য, ‘দেশ এবার আপনাকে ধাওয়া করবে। ছাড় পাবেন না।’ সাংসদের এসব মন্তব্য মানহানিকর বলে পাল্টা আদালতে নালিশ করেন মুখ্যসচিব। তাঁর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, কোনও ভোট চুরি নয় বা কারচুপি নয়। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আইন মেনে এসআইআর করেছেন। এটা কোনও বেআইনি কাজ নয়।

মামলার পর্যবেক্ষণে আলিপুর আদালত জানিয়েছে, মহুয়া মৈত্রের পোস্টগুলিতে শুধুমাত্র এসআইআর প্রক্রিয়ার সমালোচনা করা হয়নি, বরং মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে বেআইনি কাজের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কিন্তু এই ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে তিনি আদালতে উপযুক্ত কোনও প্রমাণ পেশ করতে পারেননি। ফলে ওই অভিযোগগুলির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়েই সন্দেহ রয়েছে। আদালতের অভিমত, এসআইআর বা সরকারি নীতি নিয়ে জনস্বার্থের পরিসরে যে কোনও আলোচনা বা সমালোচনা করার অধিকার সকলেরই রয়েছে, তবে সেই সমালোচনার আড়ালে ব্যক্তিগতভাবে কোনও সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করা যায় না। সেদিক থেকে মহুয়া মৈত্রের পোস্ট যথেষ্ট আপত্তিকর। তাঁকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই পোস্ট মুছতে হবে। মানহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা এবং আইনি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ৫ জানুয়ারি ২০২৭। ফলে এসআইআর-কে ঘিরে মহুয়া মৈত্র ও মনোজ আগরওয়ালের আইনি সংঘাত আগামী দিনে কোন পর্যায়ে পৌঁছয় সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।