WB Assembly Elections 2026: ভোটদানে বঞ্চিত ভোটকর্মীরাই! 'অধীর-গড়ে' পোস্টাল ব্যালেট ঘিরে তুমুল বিশৃঙ্খলা
WB Assembly Elections 2026: চারদিন আগে বহরমপুরের এই ভোটকর্মীদের দ্বিতীয় দফার প্রশিক্ষণ ছিল। প্রশিক্ষণের পরেই তাঁদের ভোট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা ভোট দিতে পারেননি।
WB Assembly Elections 2026: পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে রাজ্যজুড়ে। এই ভোটদান প্রক্রিয়া নিয়েই অব্যবস্থা-সহ নানা অভিযোগ উঠল রাজ্যের একাধিক জায়গায়। এবার ঘটনাস্থল মুর্শিদাবাদের বহরমপুর। এর আগে প্রশিক্ষণের সময় তাঁদের ভোট দেওয়ার কথা থাকলেও সেদিন ভোট নেওয়া যায়নি। এরপর আজ, সোমবার ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েও ভোট দিতে পারলেন না ভোটকর্মীরা। উল্টে হয়রানির শিকার হন। সেই কারণে জেলাশাসকের দফতর খুলতেই অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান ভোটকর্মীদের একাংশ।

জানা গিয়েছে, চারদিন আগে বহরমপুরের এই ভোটকর্মীদের দ্বিতীয় দফার প্রশিক্ষণ ছিল। প্রশিক্ষণের পরেই তাঁদের ভোট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। এরপর ভোট দেওয়ার জন্য লাগাতার চারদিন ঘুরেছেন তাঁরা। সোমবার সকালেও কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুলে ভোটদানের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ভোটকর্মীরা। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর তাঁরা জানতে পারেন ব্যালট ভোট নিজের নিজের মহকুমায় গিয়ে দিতে হবে। এরপরই ভোটকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এর প্রতিবাদে বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পূর্বের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা ভোট দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চারদিন ধরে ভোট দেওয়ার জন্য হয়রানির শিকার হওয়ার পর তাঁরা জানতে পারেন, নিজেদের মহকুমায় গিয়ে ভোট দিতে হবে।
জেলাশাসকের অফিসে বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বহরমপুরের বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র। তাঁর প্রশ্ন, 'নির্বাচনে যদি ভোটকর্মীরাই অংশ নিতে না পারে তাহলে এই ভোটের মূল্য কী? তাহলে কীসের নির্বাচন কমিশন?' অন্যদিকে কংগ্রেস প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী দাবি, তৃণমূলের হুমকির ভয়ে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে ভোট কর্মীরা অনেকেই নির্ভয়ে ভোট দিতে পারছেন না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এধরনের হস্তক্ষেপ কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। নির্বাচন কমিশনের কাছে অধীরের দাবি, অবিলম্বে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হোক। পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করা হোক। পাশাপাশি, সমস্ত যোগ্য ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী। যদিও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য কংগ্রেস ও বিজেপির অভিযোগ মানতে নারাজ। মুর্শিদাবাদ জেলায় দলের নেতা অশোক দাস পাল্টা বলেছেন, ‘অধীর চৌধুরী মিথ্যে কথা বলতে অভ্যস্ত। তাঁর এই দক্ষতার কথা বহরমপুরের মানুষ ভালই জানেন। এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগের জবাব দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।’
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও তাঁদের ভোটদান নিয়ে অব্যবস্থার অভিযোগে মুর্শিদাবাদের লালবাগে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এই নিয়ে ব্যাপাক উত্তেজনা ছড়ায়। রবিবার আমতা বিধানসভার কয়েকজন ভোটকর্মীর পোস্টাল ব্যালট না আসায় তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। ভোট দিতে না পেরে পথ অবরোধ করেন তাঁরা।
E-Paper

