Kalighat Police Outpost: কালীঘাট মন্দিরের নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ, প্রথমবার আলাদা ফাঁড়ি কলকাতা পুলিশের
কালীঘাটে মন্দির চত্বর, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর জন্য এবার পৃথক পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার নির্দেশে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
কালীঘাট মন্দিরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ। শুধু মন্দির চত্বর, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানোর জন্য এবার পৃথক পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার নির্দেশে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের দাবি, শহরের কোনও ধর্মীয় স্থানের জন্য এই প্রথম পৃথক পুলিশ ফাঁড়ি গঠন করা হল।

কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কালীঘাট মন্দিরে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ আসেন। উৎসব বা বিশেষ তিথিতে ভিড় আরও বেড়ে যায়। সেই সময় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং মন্দির চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুধু ভিড় নিয়ন্ত্রণ নয়, মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়ে আরও কিছু নির্দিষ্ট আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে কলকাতা পুলিশের নির্দেশিকায়। পুলিশ জানিয়েছে, অতীতে কালীঘাট মন্দিরকে ঘিরে একাধিক নিরাপত্তাগত ঝুঁকি দেখা গিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সন্দেহভাজন জঙ্গি কার্যকলাপ এবং বিদেশি জঙ্গি-যোগের অভিযোগ সামনে আসায় ধর্মীয় স্থানগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ফলে কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থান কালীঘাট মন্দিরেও নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে সাজানো হচ্ছে।
তবে কলকাতা পুলিশের বক্তব্যে কোনও নির্দিষ্ট জঙ্গি সংগঠন বা কোনও বিশেষ দেশের তরফে কালীঘাট মন্দিরকে টার্গেট করার প্রমাণের কথা বলা হয়নি। বরং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মাথায় রেখে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
নতুন পুলিশ ফাঁড়িতে থাকবেন মোট **২০ জন পুলিশকর্মী**। তাঁদের নেতৃত্বে থাকবেন একজন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক। দলে থাকবেন দু’জন সাব-ইন্সপেক্টর এবং সার্জেন্ট পদমর্যাদার আধিকারিক। এছাড়া আট জন কনস্টেবল এবং পাঁচ জন মহিলা কনস্টেবলও মোতায়েন থাকবেন।
মহিলা কনস্টেবল রাখার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মন্দিরে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মহিলা দর্শনার্থী আসেন। নিরাপত্তার পাশাপাশি তাঁদের সহায়তা, ভিড়ের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রেও মহিলা পুলিশকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
নতুন ফাঁড়িটি কালীঘাট থানার অধীনেই কাজ করবে। পুরো ব্যবস্থার তদারকির দায়িত্বে থাকবেন কলকাতা পুলিশের ডিসি, সাউথ। অর্থাৎ কালীঘাট থানার সঙ্গে সমন্বয় করেই ফাঁড়ির পুলিশকর্মীরা মন্দির চত্বরের নিরাপত্তা দেখবেন।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে না, মন্দিরে আসা সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য এবং দ্রুত পুলিশি সহায়তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা, ভিড়ের চাপ বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
কালীঘাট মন্দির কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান। ফলে মন্দিরের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুলিশের এই নতুন উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী দিনে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানেও একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এখন সেদিকেও নজর রয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


