IPAC-কাণ্ডের ছায়া! রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে কলকাতায় ইডি ডিরেক্টর, বৈঠক...

গত ৮ জানুয়ারি তৃণমূলের ভোট কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আইপ্যাকের কলকাতার অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি।

Published on: Jan 21, 2026 5:55 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের শুনানির ঠিক আগেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ৩ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালতে মামলার শুনানি হওয়ার কথা, তার আগেই বৃহস্পতিবার কলকাতায় আসছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) ডিরেক্টর রাহুল নবীন। আর তাঁর এই সফর ঘিরে প্রশাসনিক ও আইনি মহলে বাড়ছে কৌতূহল।

রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে কলকাতায় ইডি ডিরেক্টর
রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে কলকাতায় ইডি ডিরেক্টর

ইডি সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার কলকাতায় পা রাখছেন রাহুল নবীন। তিন দিনের সফরে রাজ্যে এলেও, এই সফরের নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে সরকারি ভাবে এখনও মুখ খোলেনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক আইপ্যাক অভিযান এবং তার জেরে রাজ্য সরকারের সঙ্গে ইডির সংঘাতের আবহেই এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে রাজ্যের ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন রাহুল নবীন। শনিবার তাঁর দিল্লি ফেরার কথা। এই তিন দিনই রাজ্যের সব ইডি আধিকারিককে সিজিও কমপ্লেক্সে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। ওই বৈঠকে আইপ্যাক-কাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। রাহুল নবীনের সফর সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে মূলত পশ্চিমবঙ্গ জোনের ইডি কর্মকর্তাদের চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রম ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা।

আইপ্যাক-কাণ্ড

গত ৮ জানুয়ারি তৃণমূলের ভোট কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আইপ্যাকের কলকাতার অফিস এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময়ই নাটকীয় ভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মা। বর্তমানে তৃণমূলের ভোট সংক্রান্ত কাজকর্ম সামলাচ্ছে আইপ্যাক। শাসকদলের অভিযোগ, বিজেপির হয়ে ইডি ব্যবহার করে তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা ও দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য হাতানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তৃণমূলের আরও অভিযোগ, আইপ্যাক অফিসে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নথি ‘বাজেয়াপ্ত’ করতে চেয়েছিল ইডি। তল্লাশি শেষে অফিস ও প্রতীকের বাড়ি থেকে কিছু কাগজপত্র হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। পরে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের ‘চেয়ারপার্সন’ হিসেবেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এই ঘটনার পরেই ইডি সরব হয়। বিষয়টি দ্রুত গড়ায় আদালতে। কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে মামলা এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। ইডির তরফে মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এমনকী পুরো ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইডির বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ করেছে কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশ। পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থও হয়েছে ইডি। আপাতত আদালতের নির্দেশে ইডির বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ স্থগিত রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যে আসছেন ইডির শীর্ষকর্তা।