Ananta Maharaj: বঙ্গবিভূষণ হাতছাড়ার পর সুরবদল! গ্রেফতারির ভয়েই কি নেতাজি-মন্তব্যে দুঃখপ্রকাশ অনন্ত মহারাজের?

নেতাজিকে নিয়ে নিজের বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেছেন অনন্ত মহারাজ। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় অনন্ত মহারাজ বলেন, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর কিছু বক্তব্য অনিচ্ছাকৃতভাবে কাউকে মানসিকভাবে আঘাত করে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

Published on: Aug 14, 2026, 10:27:39 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বঙ্গবিভূষণ সম্মান হারানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুর বদল করলেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। নিজের বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় অনন্ত মহারাজ বলেন, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর কিছু বক্তব্য অনিচ্ছাকৃতভাবে কাউকে মানসিকভাবে আঘাত করে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

নেতাজিকে নিয়ে নিজের বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেছেন অনন্ত মহারাজ।
নেতাজিকে নিয়ে নিজের বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেছেন অনন্ত মহারাজ।

কিন্তু তাঁর এই ক্ষমাপ্রার্থনার আগে যথেষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়েছিল তাঁর একাধিক মন্তব্যকে ঘিরে। নেতাজির স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অনন্ত মহারাজ দাবি করেছিলেন, শুধু মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের কারণেই ভারত স্বাধীন হয়নি। তাঁর বক্তব্যে কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকা যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলেও দাবি করা হয়।

অনন্ত মহারাজ আরও দাবি করেছিলেন, কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জার্মানির হাতে বন্দি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ তৈরি হয়। নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নেতাজিকে নিয়ে তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। বিভিন্ন মহল থেকে তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করা হয়। জনমানসে ক্ষোভও তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের তরফে তাঁর বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার করা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে মমতা সরকারের আমলেই অনন্ত মহারাজকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল।

সম্মান প্রত্যাহারের পরও প্রথমে নিজের বক্তব্যে অনড় ছিলেন অনন্ত মহারাজ। তিনি দাবি করেন, ইতিহাসের যে তথ্য তিনি উল্লেখ করেছেন, সেটাই সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, তিনি নেতাজিকে গালাগালি বা অপমান করেননি এবং নিজের থেকে কোনও মনগড়া তথ্যও তৈরি করেননি। এমনকি তিনি অন্যায় করে থাকলে আইনি শাস্তি দেওয়া যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

তবে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হতে থাকায় শেষ পর্যন্ত তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন আসে। ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, নেতাজি সম্পর্কে তাঁর কিছু অনিচ্ছাকৃত বক্তব্যে কেউ মানসিকভাবে আহত হয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

অনন্ত মহারাজের এই দুঃখপ্রকাশকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তিত্ব। তাই তাঁকে নিয়ে কোনও বিতর্কিত মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এবং জনরোষের পর অনন্ত মহারাজের উপর চাপ তৈরি হয়েছিল। এরই সঙ্গে নেতাজিকে অপমান করার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। অনন্ত মহারাজকেও গ্রেফতার করা হবে কি না, তাই নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এই আবহে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর বক্তব্যের সুর বদলেছে। যদিও তাঁর দুঃখপ্রকাশে বিতর্ক পুরোপুরি থামবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এখন বড় প্রশ্ন, বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কি পুনর্বিবেচনা করবে রাজ্য সরকার? নাকি অনন্ত মহারাজের দুঃখপ্রকাশের পরও সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে? রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের নজর এখন সেই দিকেই।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More