‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা...,' সরকার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, এসআর-শিপ পোস্টিং ছাড়ছেন অনিকেত

শীর্ষ আদালতও বহাল রাখে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়। তারপরেও, এখনও পোস্টিং দেওয়া হয়নি অনিকেত মাহাতোকে।

Published on: Jan 2, 2026, 19:01:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে আমার ডাক্তারি জীবনকে খুন করতে চায় রাজ্য সরকার।’ বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে এসআর-শিপ পোস্টিং ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও এখনও আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে পোস্টিং পাননি তিনি। এই আবহে অনিকেত জানালেন, এসআর-শিপ পোস্টিং ছাড়লে সরকারকে মোটা টাকা দিতে হয়। সেই টাকার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্য চাইলেন তিনি।

এসআর-শিপ পোস্টিং ছাড়ছেন অনিকেত
এসআর-শিপ পোস্টিং ছাড়ছেন অনিকেত

গত মাসেই পোস্টিং মামলায় স্বস্তি পেয়েছেন অনিকেত মাহাতো। সুপ্রিম কোর্টে বহাল রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ। সুতরাং আদালতের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রায়গঞ্জ নয়, জুনিয়র ডাক্তার অনিকেতকে পোস্টিং দিতে হবে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। তবে অনিকেত মাহাতোর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও কার্যত হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে রাজ্য সরকার। পোস্টিং দেওয়ার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে অনিকেত মাহাতো বলেন, ‘আমি এখনও পোস্টিং পাইনি। আমি মনে করি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে করার জায়গা থেকে রাজ্য সরকার আমার ডাক্তারি জীবনকে সত্যিকারের খুনের মতো পদক্ষেপের দিকে এগোতে চায়। আমি স্পষ্ট করে আজ জানাতে চাই, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ যে আকার ধারণ করছে, তা থেকে আমি মনে করি রাজ্য সরকার ভবিষ্যতে আমাকে পোস্টিং দেয়, তাতেও ডাক্তার হিসাবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করতে পারব না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এই রাজ্য সরকারের অধীনে আমি এসআর-শিপ করতে চাই না।’

অনিকেতের কথায়, ‘সরকার যাই সিদ্ধান্ত নিক না কেন, আমি এসআর-শিপ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছি।’ এসআর-শিপ পোস্টিং ছেড়ে দিলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সরকারকে দিতে হয়। সেই টাকার জন্য সাধারণ মানুষের সাহায্য চাইলেন অনিকেত। তিনি বলেন, ‘এসআর-শিপ পোস্টিং ছাড়তে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। তার জন্য আপনারা যা পারবেন, তেমন আর্থিক সাহায্য আমাকে করবেন।’ তিনি আরও জানান, আরজি করের খুন হওয়া চিকিৎসকের ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন। সেই লড়াইয়েও সকলকে আগের মতোই পাশে চেয়েছেন অনিকেত মাহাতো। বলে রাখা ভালো, অনিকেতের পোস্টিং নিয়ে রাজ্যের সিদ্ধান্ত গত সেপ্টেম্বর মাসেই খারিজ করে দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। তিনি জানিয়েছিলেন, রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ নয়, আরজি করেই পোস্টিং দিতে হবে অনিকেতকে। সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে রাজ্য সন্তুষ্ট ছিল না। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। কিন্তু বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চও সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ বহাল রাখে। সব শেষে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। তবে শীর্ষ আদালতও বহাল রাখে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়। তারপরেও, এখনও পোস্টিং দেওয়া হয়নি অনিকেতকে।

আরজি করে মহিলা চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনের পর রাজ্যজুড়ে যে গণআন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার অন্যতম মুখ ছিলেন চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। তবে বৃহস্পতিবারই পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের বোর্ড অফ ট্রাস্টের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পদত্যাগপত্রে সংগঠনের সঙ্গে নিজের মতানৈক্যের কথা গোপন করেননি অনিকেত। অনিকেতের মতে, অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবিতেই তিনি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। সেই লড়াই তিনি ছাড়তে পারবেন না, কারণ সহকর্মীর যন্ত্রণা তিনি ভুলতে পারেন না। তাই নিজের মতো করেই তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।