Annapurna Yojna Row: ‘মায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে, স্ত্রী পায়নি’, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সংসারে অশান্তি
তেহট্ট ১ নম্বর ব্লকের বহু মহিলা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, এখনও বহু যোগ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা পৌঁছয়নি।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা না মেলায় নদিয়ার তেহট্ট ১ নম্বর ব্লক অফিসে বিক্ষোভ দেখালেন বহু উপভোক্তা। প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা এখনও অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে না পৌঁছনোয় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মহিলারা। তাঁদের সঙ্গে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন এক যুবকও। তবে তাঁর বক্তব্যই সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। যুবকের দাবি, প্রকল্পের টাকা নিয়ে তাঁর পরিবারে অশান্তি শুরু হয়েছে। কারণ, তাঁর মায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা এলেও স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা ঢোকেনি।

জানা গিয়েছে, তেহট্ট ১ নম্বর ব্লকের বহু মহিলা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, এখনও বহু যোগ্য আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা পৌঁছয়নি। সেই কারণেই কয়েক দিন আগে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর অফিসে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সেই বিক্ষোভের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক নিজের সমস্যার কথা তুলে ধরে বলছেন, তাঁর মা এবং স্ত্রী—দু'জনেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়লেও স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে এখনও কোনও অর্থ আসেনি।
যুবকের কথায়, ‘মায়ের টাকা ঢুকেছে, কিন্তু বউয়ের টাকা ঢোকেনি। এই নিয়ে বাড়িতে রোজ অশান্তি হচ্ছে। স্ত্রী প্রশ্ন করছে, অন্যদের টাকা এল, মায়ের টাকা এল, কিন্তু আমারটা কেন এল না? শুধু আমার বাড়ি নয়, অনেক সংসারেই একই সমস্যা দেখা দিয়েছে।’ ওই যুবকের বক্তব্যের সময় উপস্থিত অনেকেই তাঁর সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন। তাঁদেরও দাবি, একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছেন বহু পরিবার। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বঞ্চিতদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর দাবি জানান তাঁরা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মহিলাদের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রকৃত উপভোক্তাদের অনেকেই এখনও টাকা পাননি। তাঁদের দাবি, যাঁরা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য নন, এমন অনেকের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই টাকা পৌঁছে গিয়েছে। এমনকি যাচাই-বাছাইয়ের সময় যাঁদের নাম বাদ পড়েছিল, তাঁদের মধ্যেও কেউ কেউ টাকা পেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে যোগ্য হয়েও কেন তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, আবেদন প্রক্রিয়া এবং উপভোক্তাদের তালিকা তৈরিতে কোথাও না কোথাও গলদ রয়েছে। সেই কারণেই প্রকৃত প্রাপকদের একাংশ এখনও সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত। বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এদিকে, যে যুবকের বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে, তিনি তেহট্ট ১ নম্বর ব্লকেরই বাসিন্দা বলে জানা গেলেও তাঁর পরিচয় প্রকাশ্যে আসেনি। পরে এ বিষয়ে আর কোনও মন্তব্য করতেও তিনি রাজি হননি। তবে তাঁর বক্তব্য ঘিরে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ এবং তার সামাজিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


