অসুস্থতার মধ্যে SIR-র কাজের চাপ! রাজ্যে ফের BLO-র মৃত্যু, রাজনৈতিক চাপানউতর তুঙ্গে
পরিবারের অভিযোগ, দিনের পর দিন প্রবল চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছিল সম্পৃতা চৌধুরী সান্যালকে।
রাজ্যে ফেল বিএলও’র মৃত্যু। এবার ঘটনাস্থল মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার ফুলবাড়ি পাকুরতলা এলাকা। পরিবারের দাবি, এসআইআরের কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু মালদহের বিএলও সম্পৃতা চৌধুরী সান্যালের। খবর পেয়েই মৃতার বাড়িতে ছুটে যান স্থানীয় কাউন্সিলর। যদিও সব মৃত্যুর জন্য এসআইআরকে দুষলে চলবে না বলেই মন্তব্য স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের।

জানা গিয়েছে, মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার ফুলবাড়ি পাকুরতলা এলাকার বাসিন্দা সম্পৃতা চৌধুরী সান্যাল। তিনি পেশায় আইসিডিএস কর্মী ছিলেন। তিনি ইংরেজবাজার পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬৩ নম্বর বুথের বিএলও’র দায়িত্বে ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, দিনের পর দিন প্রবল চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছিল তাঁকে। তার উপর তীব্র শীত। অসুস্থ হয়ে পড়লেও কাজের চাপে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাননি। সে কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃতার স্বামী অর্ধেন্দু চৌধুরী বলেন, 'প্রচণ্ড কাজের চাপ ছিল। তার মধ্যে তীব্র শীত। গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল সম্পৃতা। ডাক্তার দেখানো হয়েছিল। তিনি বিশ্রাম নিতে বলেছিলেন। কিন্তু এসআইআর-এর কাজের চাপ প্রবল। ফলে অসুস্থতা সত্ত্বেও কাজ করতে গিয়েই সমস্যা আরও বাড়ে। আজ ভোরে মৃত্যু হয়েছে।'
এদিকে, বিএলও-র মৃত্যুর খবর পেয়েই তাঁর বাড়িতে ছুটে যান ইংরেজবাজার পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর গায়ত্রী ঘোষ। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গায়ত্রী দেবীর অভিযোগ, 'প্রত্যেকদিন নির্বাচন কমিশন নতুন নতুন নিয়ম জারি করছে। এতে বিএলও-রা প্রবল চাপে পড়ছেন। উনি নিজেই বলেছিলেন, রাতে ঘুমোতে পারতেন না, রাত ২-৩টে পর্যন্ত কাজ করতে হত। এত মৃত্যুর পরেও যদি কমিশন না বোঝে, তাহলে আর কবে বুঝবে জানি না। মাত্র ৪৮-৪৯ বছর বয়সে চাপের জন্য একজনকে চলে যেতে হল।' যদিও এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। দলের দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, 'বিএলও-র মৃত্যু নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। কিন্তু এসআইআর-এর জন্য বিএলও-রা মরছেন, এটা ঠিক নয়। কী কারণে মৃত্যু, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমরা সিবিআই তদন্তের দাবি করছি। বিএলও-দের উপর তৃণমূল সরকারের চাপ রয়েছে বলেই এই পরিস্থিতি।'
প্রসঙ্গত, এই নিয়ে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত এসআইআর পর্বে সাত জন বিএলও’র মৃত্যু হল। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের কাজ শুরুর চার দিন পর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। ‘কাজের চাপে’ মৃত্যু হয় পূর্ব বর্ধমানের বিএলও নমিতা হাঁসদার। এর ১০ দিন পরে জলপাইগুড়িতে এক বিএলও মারা যান। অভিযোগ, কাজের চাপে আত্মঘাতী হন ডুয়ার্সের মাল ব্লকের নিউ গ্লেনকো চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা শান্তিমুনি ওঁরাও। এরপরে ২১ নভেম্বর নদিয়ার কৃষ্ণনগরে আত্মঘাতী হন এক বিএলও। নাম রিঙ্কু তরফদার। তাঁর দেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তারপরে মুর্শিদাবাদে হৃরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জাকির হোসেন নামে এক বিএলও। গত ২৮ ডিসেম্বর বাঁকুড়ার রানিবাঁধে হারাধন মণ্ডল নামে এক বিএলও-র আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। গত শনিবার মৃত্যু হয় কোচবিহারের আশিসের। সেই ঘটনার চার দিনের মধ্যে রাজ্যে ফের এক বিএলও-র মৃত্যু ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, এসআইআরের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মীদের উপর চাপ কতটা বাড়ছে, আর তার দায় নেবে কে? মালদহের এই মৃত্যু নতুন করে সেই বিতর্কই উসকে দিল।
E-Paper

