Howrah Shootout: হাওড়ায় ফের শুটআউট! দোকান বন্ধ করতেই পরপর গুলি, সব খোয়ালেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী

Howrah Shootout: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাঁকরাইলের রানিহাটি পুরাতন বাজারে সোনার দোকান রয়েছে ব্যবসায়ী চন্দন কাঁড়ারের। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়।

Published on: Jun 14, 2026, 23:21:26 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Howrah Shootout: রাতের অন্ধকারে ফের গুলি চলল হাওড়ায়। এবার দুষ্কৃতীদের নিশানায় হাওড়ার এক স্বর্ণব্যবসায়ী। তবে ভাগ্যজোরে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন। দুষ্কৃতীরা ওই ব্যবসায়ীর থেকে সোনা, রুপোর গয়না-সহ টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার সাঁকরাইল থানা এলাকায়। এই খবর জানাজানি হতেই গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

হাওড়ায় ফের শুটআউট! (সৌজন্যে টুইটার)
হাওড়ায় ফের শুটআউট! (সৌজন্যে টুইটার)

দোকান বন্ধের মুহূর্তেই হামলা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাঁকরাইলের রানিহাটি পুরাতন বাজারে সোনার দোকান রয়েছে ব্যবসায়ী চন্দন কাঁড়ারের। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই মতো সমস্ত গয়না এবং সারাদিনের উপার্জনের টাকা ব্যাগে ভরে যখন তিনি বেরোচ্ছেন, ঠিক তখনই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ সেই সময়, আচমকাই তিনটি মোটরসাইকেলে চড়ে মোট ৬ জন দুষ্কৃতী সেখানে এসে জড়ো হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা চন্দনবাবুকে ঘিরে ফেলে। তাদের মধ্যে একজনের হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। ব্যবসায়ী যাতে কোনওভাবে বাধা দিতে না পারেন, সেই জন্য তাঁকে লক্ষ করে পরপর ৫ রাউন্ড গুলি চালানো হয়।

অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা

গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা বাজার এলাকা। তবে বরাতজোরে গুলি চন্দনবাবুর গায়ে লাগেনি। লক্ষভ্রষ্ট হয়ে গুলিটি গিয়ে লাগে তাঁর বাইকে। যার জেরে ব্যবসায়ীর বাইকের সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপরই আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চন্দনবাবুর হাত থেকে দুটি ব্যাগ কেড়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। চোখের পলকে নিজেদের বাইকে চেপে চম্পট দেয় তারা। গুলির আওয়াজে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। ছুটে আসেন আশপাশের দোকানের ব্যবসায়ীরাও। লুট হওয়া ব্যাগের পরিমাণ শুনলে চোখ কপালে উঠবে যে কারোর। ওই ব্যবসায়ীর দাবি, ব্যাগে ৭ থেকে ৮ কেজি রুপোর গয়না। ১০০-১৫০ গ্রাম সোনার গয়না ও নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিল। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া গয়নার বাজারমূল্য বেশ কয়েক লক্ষ টাকা। আক্রান্ত ব্যবসায়ী চন্দন কাঁড়ার সংবাদমাধ্যমের সামনে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, 'শনিবার রাতে যখন দোকান বাড়িয়ে বাড়ি ফিরব ভাবছি, ঠিক তখনই ৫-৬ জন ছেলে এসে চড়াও হয়। নিমেষের মধ্যে আমার হাতের দুটো ব্যাগ কেড়ে নেয়। একজন তো বন্দুক বের করে সরাসরি আমাকে লক্ষ্য করেই গুলি চালিয়ে দিল। ভাগ্য ভালো যে গুলিটা আমার গায়ে লাগেনি, বাইকে লেগেছে। ওরা আমার সব লুটে নিয়ে চলে গেল।'

পুলিশের পদক্ষেপ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ

ঘটনায় স্বভাবতই ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। রানিহাটি পুরাতন বাজারের মতো একটি ব্যস্ত এলাকায় এর আগে কখনও এই ধরণের ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি বলেই দাবি করছেন স্থানীয় দোকানদারেরা। এই ঘটনার পর চন্দনবাবু যেমন আতঙ্কে সিঁটিয়ে রয়েছেন, তেমনই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার অন্যান্য ব্যবসায়ীরা। বাজারে রাতে পুলিশি টহলদারির অভাব ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এদিকে, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশিও শুরু হয়। ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, দুষ্কৃতীরা কোন রাস্তা দিয়ে পালিয়ে গেল। পাশাপাশি, এই হামলার আগে তারা বেশ কয়েকদিন ধরে এলাকাটি রেইকি বা রিকি (নজরদারি) করেছিল কিনা, তাও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। প্রকাশ্য দিবালোকে বা রাতে এমন শুটআউটের ঘটনায় জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।