Anti Maoist Operation Update: ৩ মাওবাদী নেতা-নেত্রী গ্রেপ্তারের পর ‘মিশন আকাশ’, বাংলা-ঝাড়খণ্ডের যৌথ অভিযানে জোর

বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানার ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু হয়। অভিযানের আগে মাওবাদী দমন অভিযানে ব্যবহৃত রাজ্য পুলিশের কুঁচিয়া ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বাঁকুড়া রেঞ্জের ডিআইজি অভিষেক মুদি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ।

Published on: Aug 7, 2026, 10:40:24 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Anti Maoist Operation Update: ঝাড়খণ্ডে তিন শীর্ষ মাওবাদী নেতা-নেত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার পর এবার কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে ‘আকাশ’-কে ধরতে বড়সড় অভিযানে নামল বাংলা ও ঝাড়খণ্ড পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে পুরুলিয়ার ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। পুলিশের দাবি, মাওবাদীদের সংগঠনের মনোবল এখন অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে ‘মিশন আকাশ’-এ ঝাঁপিয়েছে দুই রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানার ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু হয়।  (প্রতীকী ছবি) (ANI Video Grab)
বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানার ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু হয়। (প্রতীকী ছবি) (ANI Video Grab)

বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানার ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু হয়। অভিযানের আগে মাওবাদী দমন অভিযানে ব্যবহৃত রাজ্য পুলিশের কুঁচিয়া ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বাঁকুড়া রেঞ্জের ডিআইজি অভিষেক মুদি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ। সীমান্তবর্তী একাধিক গ্রাম ঘুরে বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা এবং অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশকর্মীদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, বুধবার ভোররাতে ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খরসওয়ান জেলার কাণ্ডরা ও নিমডি থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন মদন মাহাতো, সাগর সিং এবং তাঁর স্ত্রী মীরা পাহাড়িয়া। ধৃতদের জেরা করে চান্ডিল থানার আসনবনি গ্রাম থেকে একটি ম্যাগাজিন-সহ ইনসাস রাইফেল এবং ২০৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার মনোজ স্বর্গিয়ারি জানান, তদন্ত এখনও চলছে এবং জঙ্গলে আত্মগোপন করে থাকা বাকি মাওবাদীদের মূলস্রোতে ফিরে এসে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের দাবি, সারাণ্ডা জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর চাপ বাড়ার পর অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশের নেতৃত্বাধীন স্কোয়াড দলমা পাহাড় এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছিল। সেখান থেকে দলমা থেকে কাঁকরাঝোর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় ঘন ঘন ডেরা বদল করে সংগঠন পুনর্গঠনের কাজ চালাচ্ছিল তারা। গোয়েন্দাদের মতে, বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েই ওই অঞ্চলে সক্রিয় হয়েছিল মদন মাহাতো, সাগর সিং এবং মীরা পাহাড়িয়া।

ধৃত তিনজনের গ্রেপ্তারের পর আকাশের স্কোয়াডে এখন সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ছয়জনে। পুলিশের দাবি, আকাশ ছাড়াও বর্তমানে ওই দলে রয়েছে শচিন ও তার স্ত্রী মিতা, মদন মাহাতোর স্ত্রী বুলু ওরফে জবা এবং সমীর মাহাতো ও তার স্ত্রী মালতী। ফলে সংগঠন পরিচালনা ও নতুন সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা খেয়েছে মাওবাদীরা।

এই পরিস্থিতিতে সীমান্তজুড়ে নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। ঝাড়খণ্ড থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের সমস্ত ছোট-বড় রাস্তা, চেকপোস্ট এবং জঙ্গলপথে চলছে কড়া তল্লাশি। চারচাকা গাড়ি, মোটরবাইক এমনকি সাইকেল আরোহীদেরও ব্যাগ ও অন্যান্য সামগ্রী পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে অচেনা ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।

তবে এখনও পর্যন্ত আকাশের সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে কোনও তথ্য হাতে আসেনি বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। তবুও পুলিশের বিশ্বাস, হাতে গোনা কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে থাকা আকাশের পক্ষে সহজ হবে না। সংগঠন টিকিয়ে রাখতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেই হবে, আর সেই সম্ভাবনাকেই মাথায় রেখে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে বিশেষ সোর্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলা ও ঝাড়খণ্ড পুলিশের আশা, যৌথ অভিযানের চাপ আরও বাড়লে খুব শীঘ্রই আকাশ ও তার স্কোয়াডকে ধরতে সক্ষম হবে নিরাপত্তা বাহিনী।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More