‘টুলুর মেয়ের বিয়েতেও যাইনি’, ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা মামলার হুঁশিয়ারি অনুব্রতর
অনুব্রত বলেন, 'বীরভূমে যা-ই ঘটছে, সবাই নাকি অনুব্রত ঘনিষ্ঠ। আমি যখন জেলা সভাপতি ছিলাম, তখন অনেক মানুষ আমার কাছে আসতেন। তাই বলে কি সবাই আমার ঘনিষ্ঠ? টুলু মণ্ডলের মেয়ের বিয়েতে অনেকেই গিয়েছিলেন, আমি যাইনি। আমি কোনও ভোজবাড়িতেই যাই না।'
বীরভূমের তথাকথিত ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলের সঙ্গে নিজের নাম বারবার জড়ানো নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূমের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। টুলু মণ্ডল তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে যে দাবি বিভিন্ন মহলে করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তিনি। একই সঙ্গে, এ ধরনের অভিযোগ অব্যাহত থাকলে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন অনুব্রত।

এক প্রতিক্রিয়ায় অনুব্রত মণ্ডল বলেন, 'বীরভূমে যা-ই ঘটছে, সবাই নাকি অনুব্রত ঘনিষ্ঠ। আমি যখন জেলা সভাপতি ছিলাম, তখন অনেক মানুষ আমার কাছে আসতেন। তাই বলে কি সবাই আমার ঘনিষ্ঠ? টুলু মণ্ডলের মেয়ের বিয়েতে অনেকেই গিয়েছিলেন, আমি যাইনি। আমি কোনও ভোজবাড়িতেই যাই না।' তাঁর দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা এই ধরনের প্রচার করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
যদিও অনুব্রত মণ্ডল সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন, বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই টুলু মণ্ডলের উত্থান নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা টুলু প্রথমে দিনমজুরির কাজ করতেন। পরে পাথর বোঝাই গাড়িতে মাল তোলার ইজারা নিয়ে ব্যবসায় প্রবেশ করেন। ধীরে ধীরে কিছু মূলধন সংগ্রহ করে নিজেই লরি কিনে পাথর পরিবহণের ব্যবসা শুরু করেন। সেই ব্যবসায় সাফল্যের পর ক্রমশ আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠেন তিনি।
রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর মহম্মদবাজার এলাকার পাথর শিল্পকে কেন্দ্র করে বিপুল আর্থিক সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে আসে। রাজনৈতিক মহলের নজরও পড়ে ওই অঞ্চলের উপর। সেই সময় স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে টুলু মণ্ডলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হয়। যদিও এই দাবির কোনও সরকারি বা বিচারিক স্বীকৃতি নেই।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০১৬ সালে ডিসিআরের টোল গেট পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই টুলু মণ্ডলের ব্যবসার দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটে। প্রথমে নিজের এলাকার সোঁতশাল টোলগেটের দায়িত্ব পান তিনি। পরে আরও কয়েকটি টোলগেট পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর হাতে আসে। এরপর থেকেই তাঁর ব্যবসায়িক প্রভাব এবং আর্থিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ।
বর্তমানে টুলু মণ্ডলের খোঁজ মিলছে না। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাঁকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে টুলু মণ্ডলকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। তবে তাঁর সঙ্গে নিজের কোনও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই বলেই ফের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


