Anubrata Mondal: 'চোখে দেখো না কানে দেখো তুমি!' স্নেহের ‘আঁচল’ সরিয়ে মমতাকে জড়িয়ে বিস্ফোরক কেষ্ট
Anubrata Mondal: সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনুব্রত মণ্ডল তীব্র বিষোদাগার করেন। রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, 'ঋতব্রতও তৃণমূল, আমিও তৃণমূল।'
Anubrata Mondal: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভরসার ‘কেষ্ট।’ জেল থেকে ফিরে আসার পর যাঁকে বীরের সম্মান দিতে চেয়েছিলেন। সেই অনুব্রত মণ্ডল এখন ক্ষুব্ধ। এবার আর কোনও রাখঢাক নয়, সরাসরি খোদ তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা। একদম সোজা-সাপ্টা ভাষায় তিনি বলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই নাকি জেলে গিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, কত কোটি টাকা সরকারকে রাজস্ব দিতেন তাও জানিয়ে দিলেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ আগেই ছেড়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। যোগ দিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে। ইতিমধ্যেই একুশে জুলাই শহিদ দিবস পালন নিয়ে একপ্রস্ত বৈঠক করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সেদিন অনুব্রত শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে, বুধবারের বৈঠকে সশরীরে হাজির হন কেষ্ট। মূলত আজকের বৈঠক ছিল জেলা সভাপতিদের নিয়ে। একুশে জুলাইয়ে সভাপতিদের কী কর্তব্য তারই দিক নির্দেশ ছিল আজ। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনুব্রত মণ্ডল তীব্র বিষোদাগার করেন। রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, 'ঋতব্রতও তৃণমূল, আমিও তৃণমূল।' তবে এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, প্রথম থেকেই তিনি নেত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ দিন ছিলেন এবং এখনও দলেই আছেন।
তবে আসল বিস্ফোরণটি ঘটে তাঁর জেলযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই। ইডি ও সিবিআইয়ের মামলার জেরে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুব্রত বলেন, 'ওসব বাজে কথা বলবেন না। আমি জেলে গেলাম কেন? কার জন্য গেলাম? কী জন্য গেলাম? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওঁর জন্যই জেলে গিয়েছি।' নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ হয়েছিল কিনা, সেই প্রসঙ্গেও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি জানান, ভোটের ফল প্রকাশের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তাঁকে চার বার ফোন করেছিলেন। ফোনে দলনেত্রীকে তিনি কী বার্তা দিয়েছিলেন, তা হুবহু তুলে ধরে কেষ্ট বলেন, 'আমি বলেছি চোখে দেখো না কানে দেখো তুমি! আর শুধরে যাও গা। অভিষেককে তুলে নাও।' বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা এখানেই থামেননি। তাঁর দাবি, 'বীরভূম থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা রেভিনিউ পেত সরকার। পরে কয়লার জন্য দিনে ৪০ লক্ষ টাকা দিতে হত।'
বীরভূম জেলায় তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে বরাবর অনুব্রত মণ্ডল ছিলেন একমেবদ্বিতীয়ম। তাঁর নেতৃত্বে রাঙামাটির দলীয় সংগঠন এতদিন ধরে জেলায় গেরুয়া প্রবেশ রুখে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এমনকী গরু পাচার মামলায় প্রায় ২ বছর জেলবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে ফিরে জেলা সভাপতির পদটি অটুট রেখেছিলেন মমতার প্রিয় ‘কেষ্ট।’ শেষ লোকসভা ভোটেও বীরভূমের দুটি আসন ধরে রেখেছিল তৃণমূল, তা অনুব্রতর তৈরি শক্ত সংগঠনের উপর দাঁড়িয়েই। পরে অবশ্য জেলা গোষ্ঠীকোন্দল বাড়তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর এককভাবে কেষ্টর উপর দায়িত্বভার ছাড়েননি। বীরভূমের সংগঠন দেখার জন্য তৈরি করে দিয়েছিলেন কোর কমিটি। অনুব্রত তাতে একজন সদস্যমাত্র ছিলেন। সেই থেকে ক্ষোভের সঞ্চার। এতদিন পর তা প্রকাশ্যে আসে।
E-Paper

