Central forces: শহরে জোরদার নিরাপত্তা! ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে ভোট, প্রস্তুতি লালবাজারের
Central forces: এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর পদস্থ কর্তাদেরও থাকতে হচ্ছে বাহিনীর জওয়ান ও অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গেই।
Central forces: আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আর কলকাতায় বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোর দিচ্ছে প্রশাসন। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই শহরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভোট সামলাতে কলকাতায় এসে পৌঁছতে পারে প্রায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এমনই ধারণা লালবাজারের। শহরের স্কুল ছাড়াও ওই বিপুল ভোট সামলাতে সংখ্যক বাহিনীকে কোন কোন কমিউনিটি হলে রাখা হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা করছে লালবাজার।

এখনও পর্যন্ত শহরে এসে পৌঁছেছে ১০৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারা সকাল ও সন্ধ্যায় কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় রুট মার্চ করছে। জনমানসে আস্থা ফেরাতে শুরু হয়েছে ‘কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার’ বা সিবিএম কর্মসূচি। ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে শহরের ঘিঞ্জি এলাকায় ঘুরছেন পুলিশকর্তারা। তাঁদের সঙ্গেও থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। নগদ অর্থ উদ্ধার, অশান্তি বা গোলমালের খবর পেলে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে সেই ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। শহরের রাস্তায় সিআরপিএফের বুলেটপ্রুফ সাঁজোয়া গাড়িও নজরে পড়ছে।
আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ রয়েছে। সেই কারণে, এই ১০৫ কোম্পানির মধ্যে বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় বাহিনীকেই কলকাতা থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জেলাগুলিতে। তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করছে জেলা প্রশাসন। আগামী ২৯ এপ্রিল কলকাতায় ভোট। ২৩ এপ্রিলের পর থেকেই কলকাতায় ফিরে আসবে এখান থেকে জেলায় যাওয়া কেন্দ্রীয় বাহিনী। এছাড়াও আরও বাহিনী এসে পৌঁছবে কলকাতায়। লালবাজারের কর্তাদের মতে, অন্তত ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বা আধাসেনা কলকাতায় আসতে পারে। এমনকী, নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন বোধ করলে আড়াইশো কোম্পানি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীও আসতে পারে। এদিকে, এই বিপুল বাহিনীকে কোথায় রাখা হবে, তা নিয়েও এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু হয়েছে লালবাজারে। লালবাজারের এক কর্তা জানান, এই বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীকে শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে মোতায়েন করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। তার জন্য যেমন শহরের স্কুলগুলিকে বেছে নেওয়া হচ্ছে, তেমনই বেছে নেওয়া হচ্ছে শহরের কমিউনিটি হল, এমনকী, বিয়েবাড়িও। তার আগে প্রত্যেক থানার আধিকারিকরা নিজেদের এলাকার স্কুল, কমিউনিটি হলগুলিতে গিয়ে খতিয়ে দেখছেন, সেখানে বাথরুম, জল, বিদ্যুতের কী কী সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও বাহিনীর রান্নার জন্য যাতে পর্যাপ্ত জায়গা ও জল থাকে, তা দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দু'টি ঘর কন্ট্রোল রুম ও অস্ত্রাগার হিসাবে ব্যবহার করা হবে।
এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর পদস্থ কর্তাদেরও থাকতে হচ্ছে বাহিনীর জওয়ান ও অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গেই। কোম্পানির দায়িত্বে থাকা অ্যাসিস্ট্যান্ট কম্যান্ডান্ট, ডেপুটি কম্যান্ডান্টদের থাকার জন্য আলাদা কয়েকটি ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই ঘরগুলিতে আলাদা বিছানা ও অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ২৩ এপ্রিলের পর থেকে শহরের প্রত্যেকটি অলিগলিতেও যাতে রুট মার্চ হয়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রশাসনের লক্ষ্য, ভোটের দিন শহরে যাতে শান্তিপূর্ণ ও নির্ভয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
E-Paper

