Arambagh Tourists Stuck in Nepal: নেপালের হড়পা বানে আটকে আরামবাগের ৬৫ পর্যটক, চরম উদ্বেগে পরিবার
নেপালে বেড়াতে যাওয়া ৬৫ জনের একটি দল নিয়ে বাসটি বিপর্যয়ের মধ্যে আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দ্রুত তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। জানা গিয়েছে, WB 37C 9999 নম্বরের ওই পর্যটক বাসটিতে রয়েছেন আরামবাগের ৬৫ জন পর্যটক।
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে আটকে পড়েছেন বাংলার বহু পর্যটক। তার মধ্যেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে আরামবাগের একটি পর্যটক বোঝাই বাস। নেপালে বেড়াতে যাওয়া ৬৫ জনের একটি দল নিয়ে বাসটি বিপর্যয়ের মধ্যে আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দ্রুত তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।

জানা গিয়েছে, WB 37C 9999 নম্বরের ওই পর্যটক বাসটিতে রয়েছেন আরামবাগের ৬৫ জন পর্যটক। বর্তমানে বাসটি নেপালের চেতন পার্ক এলাকায় রয়েছে। বিপর্যয়স্থল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে থাকায় সরাসরি হড়পা বানের কবলে পড়েনি বাসটি। তবে নেপালের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় পর্যটকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
গত ২৪ অগস্ট আরামবাগ থেকে ৬৫ জনের দলটি নেপালের উদ্দেশে রওনা দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁদের ঘোরার কথা ছিল বিভিন্ন পর্যটনস্থলে। কিন্তু বুধবার নেপালে আচমকা হড়পা বান এবং তার জেরে তৈরি হওয়া ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তাঁদের যাত্রাপথও বাধাগ্রস্ত হয়। বিপর্যয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আরামবাগে থাকা পরিবারগুলির মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বুধবার সকাল থেকেই অনেকেই তাঁদের প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। শেষবার কারও সঙ্গে সকাল আটটা-সাড়ে আটটার দিকে কথা হলেও পরে ফোনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নেটওয়ার্কের সমস্যা থাকায় দীর্ঘ সময় কোনও খবর না পেয়ে উৎকণ্ঠায় থাকতে হয় পরিজনদের। পরে সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হলেও পুরোপুরি দুশ্চিন্তা কাটেনি।
এক পর্যটকের ছেলে সৌভাগ্য দত্ত জানান, তাঁর মা, মামাশ্বশুর এবং পাড়ার আরও কয়েকজন গত ২৪ অগস্ট নেপালে বেড়াতে গিয়েছিলেন। হড়পা বানের খবর জানার পর থেকেই তিনি মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় ফোনে যোগাযোগ না হওয়ায় তিনি প্রবল আতঙ্কে ছিলেন। পরে বাসের কন্ডাক্টরের নম্বর সংগ্রহ করে তাঁর মাধ্যমে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। আপাতত তাঁর মা সুস্থ রয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন।
সৌভাগ্য বলেন, তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা মাকে নিয়ে। দ্রুত সবাই যেন নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরে আসেন, সেই আবেদনই জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, প্রত্যেক পর্যটকই তাঁদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বাসটির মালিক অরূপ গুহও পুরো পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাঁর দাবি, চেতন পার্কে বাসটি আটকে রয়েছে। বাসের স্টাফদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছেন এবং দ্রুত বাসটি নিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করতে বলেছেন। তবে নেপালের স্থানীয় পরিস্থিতি এবং রাস্তার অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অরূপের কথায়, পর্যটকদের মধ্যেও অনেকেই প্রথমে বিশ্বাস করতে চাইছিলেন না যে নেপালে এত বড় বিপর্যয় ঘটেছে। কিন্তু পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তাঁরাও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সব মিলিয়ে, নেপালে আটকে থাকা আরামবাগের ৬৫ পর্যটককে ঘিরে এখন উৎকণ্ঠা তুঙ্গে। নেটওয়ার্ক সমস্যা, রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি এবং বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে নিয়মিত খবর পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের একটাই আবেদন—আর কোনও ঝুঁকি নয়, দ্রুত নিরাপদে তাঁদের প্রিয়জনদের আরামবাগে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


