Abhishek Banerjee Attack Case: শনিবার সোনারপুরের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণের ঘটনায় নির্মাল্য সেনগুপ্ত, দেবাশিস দত্ত, কাজল দাস নামে তিনজনকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। বেআইনি জমায়েত, পথ আটকানো-সহ একাধিক অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
Abhishek Banerjee Attack Case: দলের ভরাডুবির পর ২৬ দিনের মাথায় প্রথম কর্মসূচিতেই বেরিয়েই তুমুল হেনস্তার মুখে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো, ডিম ও পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে চলে তীব্র বিক্ষোভ ও ‘চোর’ স্লোগান। পরিস্থিতি সামলাতে অভিষেককে মাথায় হেলমেট পরে আত্মরক্ষা করতে দেখা যায়। এই ধস্তাধস্তিতে তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় এবং বুকে চোট পান বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। এদিকে, যে এলাকায় জনরোষে আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড সেই সোনারপুরে মাত্র একমাস আগে বিধায়ক ছিলেন তৃণমূলের লাভলি মৈত্র। অন্যদিকে, এই ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারী ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। আটক করা হয়েছে আরও ৩ জনকে। এই আবহে জানা যাচ্ছে, ধৃতদের মধ্যে অনেকেই সক্রিয় তৃণমূল কর্মী রয়েছেন। অনেকেই আবার প্রাক্তন বিধায়কের ঘনিষ্ঠ বলেও জানা গিয়েছে।
বিস্ফোরক প্রাক্তন বিধায়ক (সৌজন্যে টুইটার)
শনিবার সোনারপুরের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণের ঘটনায় নির্মাল্য সেনগুপ্ত, দেবাশিস দত্ত, কাজল দাস নামে তিনজনকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। বেআইনি জমায়েত, পথ আটকানো-সহ একাধিক অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই তিনজন অভিযুক্ত সোনারপুর দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রর ঘনিষ্ঠ বলে পুলিশ সূত্রের খবর। আর এরপরেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে তৃণমূলের লোকজনই কী অভিষেককে হেনস্তা করেছে? যদিও এই প্রশ্নের উত্তরে লাভলি মৈত্র বলছেন, এই নামে ওখানে কেউ তৃণমূল করে বলে তিনি জানেন না। তাঁর কথায়, 'আমি বেশ কিছু দিন ধরেই কলকাতার বাইরে আছি। ঘটনা নিয়ে বেশি কিছু জানি না। তবে বিজেপির অনেক লোক রয়েছে যাঁদের নামে নারী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে তারা সব এখন সাধু হয়ে গিয়েছে।'
এরপরই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের সংযোজন, 'আমি যদি বাইরে না থাকতাম তাহলে আমি ওখানে যেতাম। গতকাল যা হয়েছে তা গণতন্ত্রের লজ্জা। বাংলার পুলিশ-প্রশাসন-আইন কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে সেটা গোটা দেশ দেখল। আগামীতে এভাবে চলতে থাকলে বাংলার মানুষ উত্তর দেবে।' যদিও তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলছেন, 'বেশ করেছে অ্য়ারেস্ট করেছে। কিন্তু পাথর ছোড়ার ঘটনা সবাই দেখেছে। ওই ছেলেটা যারই ঘনিষ্ঠ হোক কেন গ্রেফতার হয়েছে কিনা দেখা দরকার। সংখ্যা তত্ত্বের হিসাবে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে প্রাক্তন তৃণমূল বলছে। যদি তৃণমূল হয়ে থাকে তাহলে গ্রেফতার করে বেশ করেছে পুলিশ।' এদিকে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে, গ্রেফতারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে অভিষেকের উপর হামলা ঘটনা তৃণমূলেরই পরিকল্পনা কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'অভিষেককে সিআইডি ডেকেছে। সেই হাজিরা এড়াতে এই পরিকল্পিত হামলা নয়তো? রহস্য রয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।'