ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল, বাংলায় কতটা প্রভাব? কলকাতার আকাশ মেঘলা, ১০ জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস

মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে

Published on: Nov 3, 2026, 12:21:22 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

অবশেষে আবহবিদদের পূর্বাভাস মেনেই মঙ্গলবার ভোররাতে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আছড়ে পড়ল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছেছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারে। অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর উপকূলবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে প্রবল ঝড়বৃষ্টি। কিন্তু এই ঘূর্ণিঝড়ের কতটা প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গে? আপাতত বাংলার বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির খবর শুনিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আবহবিদদের মতে, মুরাসুর সরাসরি কোনও বড় প্রভাব রাজ্যে পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার আকাশ মেঘলা। বাতাসে রয়েছে গুমোট ভাব। নভেম্বরের শুরুতে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন কিছুটা ব্যতিক্রমী।

The IMD has forecasted a few spells of light to moderate rain with an intense spell in the city till Wednesday morning.
The IMD has forecasted a few spells of light to moderate rain with an intense spell in the city till Wednesday morning.

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত ১টা নাগাদ মুরাসুর ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে ঘূর্ণিঝড়ের বহির্ভাগ স্থলভাগে প্রবেশ করে। ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের চোখ বা কেন্দ্র উপকূলের দিকে এগিয়ে আসে। নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকায় ওঙ্গোলের কাছ দিয়ে ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। সেই সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। কোথাও কোথাও তা ১২০ কিলোমিটারেও পৌঁছয়। স্থলভাগে প্রবেশের পর থেকেই ক্রমশ শক্তি হারাতে শুরু করেছে মুরাসু।

বাংলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই

মুরাসুর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ অংশে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে গিয়েছে গাছ। তামিলনাড়ুর উত্তর অংশেও ঝড়বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তেমন কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে কয়েকটি জেলায় স্থানীয় ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি কিংবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই।

মেঘলা আকাশ, গুমোট আবহাওয়া কলকাতায়

মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা এবং আশপাশের এলাকায় আকাশের মুখ ভার। রোদের দেখা মিলছে না বললেই চলে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গুমোট ভাব অনুভূত হচ্ছে। তবে মুরাসুর প্রভাবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ৪ নভেম্বর থেকে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় আবহাওয়া শুষ্ক হতে পারে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও কমবে।

সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে কী নির্দেশ?

মুরাসুর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও সতর্ক নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। ৩ নভেম্বরের উপকূলীয় আবহাওয়া বুলেটিনে কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত নম্বর ২ এবং সাগর দ্বীপে দ্বিতীয় পর্যায়ের বিভাগীয় সংকেত জারি রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে সমুদ্রের অবস্থা আপাতত স্বাভাবিক থেকে সামান্য উত্তাল থাকবে। জলোচ্ছ্বাসের কোনও সতর্কতা নেই। রাজ্যের উপকূলে মৎস্যজীবীদের জন্য আলাদা করে সমুদ্রে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়নি বলে সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে মুরাসু নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে উদ্বেগ থাকলেও বাংলার ক্ষেত্রে বড়সড় দুর্যোগের আশঙ্কা নেই। আপাতত কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং কলকাতায় মেঘলা আকাশই আবহাওয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য। আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন আবহবিদেরা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More