Madhupur Satra: উত্তরবঙ্গ পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হবে ঐতিহাসিক মধুপুর সত্র, কোচবিহারে বড় ঘোষণা অসমের মুখ্যমন্ত্রীর
Cooch Behar Madhupur Satra: অসমের মহান ধর্মপ্রচারক শ্রীমন্ত শঙ্করদেব তাঁর জীবনের শেষ সময় মধুপুর ধামে কাটিয়েছিলেন এবং এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন।
Cooch Behar Madhupur Satra: বৈষ্ণব ধর্মপ্রচারক শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের স্মৃতিবিজড়িত কোচবিহারের ঐতিহাসিক মধুপুর সত্ৰ (Madhupur Satra) পরিদর্শন করে অসম ও পশ্চিমবঙ্গকে একযোগে এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর সফরে উপস্থিত ছিলেন অসমের মন্ত্রী অশোক সিংহল ও অশ্বিনী রায় সরকার, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মালতি রাভা রায়-সহ একাধিক বিধায়ক।

শনিবার সত্রে পৌঁছে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রার্থনা করেন এবং সত্রাধিকারের পাশাপাশি অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে মধুপুর সত্রের সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। বলে রাখা প্রয়োজন, অসমের মহান ধর্মপ্রচারক শ্রীমন্ত শঙ্করদেব তাঁর জীবনের শেষ সময় মধুপুর ধামে কাটিয়েছিলেন এবং এখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। তাঁকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক মধুপুর সত্ৰ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনে থাকলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা অসম সরকারের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। সারা বছরই অসম এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ভক্ত ও পর্যটক এখানে আসেন। তবে মধুপুর ধামের পাশাপাশি হরিপুর ও বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় সত্ৰের যে জমিগুলি রয়েছে, তার একটি অংশ ইতিমধ্যেই দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই জমিগুলি উদ্ধারের পাশাপাশি মধুপুর সত্ৰ, হরিপুর ও বৈকুণ্ঠপুর এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্যই মূলত বরাদ্দ অর্থ ব্যবহার করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
মধুপুর সত্রের উন্নয়নের জন্য অসম সরকার ইতিমধ্যেই ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, শঙ্করদেবের আদর্শ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে এক গভীর ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এই তীর্থস্থানকে রক্ষা ও উন্নত করার ক্ষেত্রে দুই রাজ্যের সরকারকে সমন্বিত ভাবে কাজ করতে হবে। তিনি প্রকল্প সম্প্রসারণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় জমি প্রদানেরও আহ্বান জানান। তিনি পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রতিনিধিদলকে শঙ্করদেবের জন্মস্থান, নগাঁও জেলার বটদ্রবা থান পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। সেখানকার পর্যটন পরিকাঠামো ঘুরে দেখার পর মধুপুর ধামকে আরও সুন্দর করে সাজানোর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি, তিনি বটদ্রবা থান ও মধুপুর সত্রকে যুক্ত করে একটি ধর্মীয় পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। স্থানীয় মানুষের আশা, এই ঐতিহাসিক স্থানের সার্বিক উন্নয়ন হলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে এবং তার হাত ধরেই মধুপুর ও সংলগ্ন এলাকার অর্থনৈতিক বিকাশও ত্বরান্বিত হবে।
E-Paper

