Bangladeshi Girl: পিসির বাড়ির পথে পাচারকারীদের খপ্পর! স্বরূপনগরে উদ্ধার বাংলাদেশের নাবালিকা

Bangladeshi Girl: স্বরূপনগরে এক নাবালিকাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়েরা। সংজ্ঞা ফেরার পরে তাঁকে পুলিশ-প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মহিলা পাচারকারীদের খপ্পরে পড়েছিল ওই নাবালিকা।

Published on: Aug 1, 2026, 23:42:57 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Bangladeshi Girl: বর্তমান সময়ে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মানবপাচার ও সক্রিয় দালাল চক্রের তৎপরতা এক ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। অভাবী ও সাধারণ পরিবারগুলিকে লক্ষ্য করে নানা প্রলোভন ও কৌশলে নাবালক-নাবালিকাদের পাচার করার ঘটনাগুলি জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর এলাকায় এমনই এক চাঞ্চল্যকর মানবপাচারের ঘটনার ভয়ংকর তথ্য সামনে এসেছে।

স্বরূপনগরে উদ্ধার বাংলাদেশের নাবালিকা (PTI Photo)(PTI04_25_2024_000232A)
স্বরূপনগরে উদ্ধার বাংলাদেশের নাবালিকা (PTI Photo)(PTI04_25_2024_000232A)

জানা গেছে, স্বরূপনগরে এক নাবালিকাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়েরা। সংজ্ঞা ফেরার পরে তাঁকে পুলিশ-প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মহিলা পাচারকারীদের খপ্পরে পড়েছিল ওই নাবালিকা। তাকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার করা হয়েছিল। তবে কোনও একটি পরিস্থিতিতে পাচারকারীরা নাবালিকাকে ফেলে পালিয়ে গিয়েছে। নাবালিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, দিন দুয়েক আগে বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় পিসির বাড়ি যাবে বলে বেরিয়েছিল সে। রাস্তায় দুই পরিচিতের সঙ্গে তার দেখা হয়। মেয়েটি সাতক্ষীরায় যাচ্ছে শুনে দু’জন জানান, তাঁরাও ওই দিকে যাচ্ছেন। আত্মীয়ের বাড়ি পৌঁছে দেবে তাকে। ওই নাবালিকা সহজ বিশ্বাসে তাঁদের সঙ্গে যায়।

নাবালিকার দাবি অনুযায়ী, রাস্তায় তাকে জল খাইয়েছিলেন দুই পরিচিত। তার পর আর তার কিছু মনে নেই। শনিবার স্বরূপনগরের তারালি সীমান্ত এলাকায় এক অপরিচিত মেয়েকে উদ্ধার করেন স্থানীয় কয়েক জন। স্থানীয় সূত্রে খবর, তখনও মেয়েটি স্বাভাবিক ছিল না। একজনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘুম ভাঙার পর অপরিচিত মুখ এবং জায়গা দেখে বিস্মিত হয় যায় ওই নাবালিকা। ধাতস্থ হওয়ার পরে পুরো ঘটনার কথা জানায় সে। এলাকাবাসী স্বরূপনগর থানার পুলিশ এবং বিএসএফকে বিষয়টি জানান। শনিবার ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় তারা। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশের অনুমান, পরিচিত ওই দুই ব্যক্তি মেয়েটিকে অর্থের বিনিময়ে পাচারকারীদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পর কী ভাবে ওই নাবালিকাকে ভারতে আনা হয়, সীমান্তে এই কাজে কারা যুক্ত ছিলেন, এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, কোনও বাধার মুখে পড়ে মেয়েটিকে ফেলে পালিয়ে গিয়েছে পাচারকারীরা। এই বিষয়ে এক ব্যক্তিকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

অন্যদিকে, স্বরূপনগরের এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'সীমান্তবর্তী এই এলাকায় ইদানীং অচেনা ও অপরিচিত লোকজনের অস্বাভাবিক আনাগোনা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।' এলাকাবাসীর মতে, এলাকার ছোট ছোট শিশুরা প্রতিদিন রাস্তাঘাট দিয়ে স্কুলে ও খেলাধুলোয় চলাচল করে। এই ধরনের বেপরোয়া পাচারকারী ও দুষ্কৃতকারী চক্র যদি শিশুদের কৌশলে বা লোভ দেখিয়ে নিয়ে যায় সেই ভয়ে অভিভাবকরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে৷ স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে এই ধরনের অপরাধী ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।