'প্লেয়িং ইলেভেন' প্রশ্নে মেজাজ হারালেন বাবুল! ফুটেজ ডিলিটের হুমকি, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

বৃহস্পতিবার রাজ্যসভা নির্বাচনে বিধানসভায় মনোনয়ন পত্র জমা দেন পশ্চিমবঙ্গের ৫ প্রার্থী। তারমধ্যে তৃণমূলেরই চার প্রার্থী।

Published on: Mar 06, 2026 7:00 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্যের ভোটের আবহে রাজ্যসভার প্রার্থীপদ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল চর্চা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ছিল এ রাজ্য থেকে রাজ্যসভার নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে রূপোলি পর্দার ‘মিনিস্টার’ থেকে বাস্তবে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা কোয়েল মল্লিক, আর অন্যদিকে দুঁদে প্রাক্তন আইপিএস রাজীব কুমার, রাজ্যের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ও আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী- শাসকদলের চার প্রার্থীর সঙ্গেই মনোনয়ন দাখিল করেন বিজেপির রাহুল সিনহাও। আর এরপরই সাংবাদিকের 'প্লেয়িং ইলেভেনের' প্রসঙ্গ উঠতেই মেজাজ হারালেন বাবুল সুপ্রিয়। হুমকি দেন ফুটেজ ডিলিট করার। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও। যা নিয়ে প্রবল বিতর্কের মুখে রাজ্যের মন্ত্রী।

বাবুল সুপ্রিয়
বাবুল সুপ্রিয়

ঘটনার সূত্রপাত

বৃহস্পতিবার রাজ্যসভা নির্বাচনে বিধানসভায় মনোনয়ন পত্র জমা দেন পশ্চিমবঙ্গের ৫ প্রার্থী। তারমধ্যে তৃণমূলেরই চার প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। বিধানসভা চত্বরে এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, 'আপনি বলেছিলেন টিম তৃণমূলে ঢুকবেন, সেটা কী ঢুকতে পারেননি?' এই প্রশ্নেই মেজাজ হারান তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী। তিনি বলেন, 'এই ধরনের প্রশ্ন কেন করছেন, এই প্রশ্নের মানে কী?' পাল্টা সাংবাদিক বলেন, 'আপনার কী মনে হয় রাজ্যের মন্ত্রী থেকে রাজ্যসভায় যাওয়া টিম ইলেভেনে না থাকার কারণ?' এরপর চটে যান বাবুল সুপ্রিয়। বলেন, 'এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করবেন না। এই প্রশ্নের কী মানে? আপনার কী মনে হয় পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী না হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়াটা টিম ইলেভেনে না থাকার কারণ। তাই এই ধরনের প্রশ্ন একদম করবেন না। আমি কোনও উত্তর দেব না।'

এরপর চলেও যান বাবুল সুপ্রিয়। কিন্তু ফের রেগেমেগে সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহকের দিকে ধেয়ে আসেন। বাবুল বলতে থাকেন, 'আমার অনুমতি ছাড়া এটা চালাতে পারবেন না। আমাকে যে কোনও প্রশ্ন করার অধিকার আপনার নেই।' এমনকী ক্যামেরার ফুটেজও ডিলিট করতে বলা হয়। যদিও চিত্রগ্রাহক তা করতে অস্বীকার করাতে রীতিমতো তেড়ে আসেন তিনি। হুমকির সুরে বলেন, 'এটা আমার বক্তব্য। আমার পারমিশন লাগবে চালাতে হলে।' এরপরও চলতে থাকে বাগবিতণ্ডা। সবমিলিয়ে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। যদিও পরে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।

প্রসঙ্গত, ১৯ অক্টোবর ২০২১ সালে সাংবাদিক বৈঠকে বাবুল সুপ্রিয় বলেছিলেন, 'মাননীয় মমতা দিদি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাব আমাকে প্লেয়িং ইলেভেনে চান্স দেওয়ার জন্য। এটা অনেকটা আমি মোহনবাগানকে ভালবাসি। কিন্তু আমাকে প্লেয়িং ইলেভেনে সুযোগ না দিয়ে যদি জুনিয়র টিমে সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে হয়তো আমি খেলব না। আমি প্রয়োজনে ছোট টিমে চলে যাব, কিংবা ইস্টবেঙ্গলে চলে যাব কিন্তু আমি প্লেয়িং ইলেভেনে থাকতে চাই।'