Bangladeshi FB Love: ফেসবুকে ৩ বছরের প্রেম, বিয়ের স্বপ্নে বাংলাদেশ থেকে এপারে তরুণী! সামনে আসতেই বেঁকে বসল প্রেমিক
ঘটনার সূত্রপাত হাবড়ার চোংদা মোড় এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে এক যুগলকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় এলাকাবাসীর মধ্যে। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাবড়া থানার পুলিশ।
প্রেমের টান যে কাঁটাতারের সীমান্তও মানে না, তারই যেন উদাহরণ উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায়। বাংলাদেশের নাটোরের এক তরুণী প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে পাড়ি দিয়েছিলেন ভারতে। লক্ষ্য ছিল প্রেমিককে বিয়ে করে সংসার পাতার। কিন্তু বাংলায় এসে দেখা হল সম্পূর্ণ উল্টো পরিস্থিতির। ফোনে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া যুবক সামনাসামনি দেখা হতেই সম্পর্ক অস্বীকার করার অভিযোগ উঠল। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায় পুলিশ পর্যন্ত।

ঘটনার সূত্রপাত হাবড়ার চোংদা মোড় এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে এক যুগলকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় এলাকাবাসীর মধ্যে। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাবড়া থানার পুলিশ। দু’জনকেই উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে প্রকাশ্যে আসে তাঁদের সম্পর্কের আসল কাহিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের নাটোরের বাসিন্দা নূপুর সরকার। প্রায় তিন বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় হয় উত্তর ২৪ পরগনার জাগুলিয়ার বাসিন্দা বিমল মজুমদারের সঙ্গে। প্রথমে অনলাইনে কথাবার্তা চললেও ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে সেই সম্পর্ক প্রেমে গড়ায় বলে দাবি নূপুরের।
তরুণীর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিমল তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করেই ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নেন নূপুর। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পাসপোর্ট তৈরি করে তিনি ভারতে আসেন। তাঁর দাবি, প্রেমিকের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনাই ছিল তাঁর।
কিন্তু ভারতে এসে পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ। নূপুরের দাবি, সামনে আসার পর বিমল তাঁকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছেন না। এমনকি সম্পর্ক রাখতেও অস্বীকার করছেন। বিষয়টি নিয়ে কার্যত বিপাকে পড়েছেন ওই তরুণী।
নূপুর জানিয়েছেন, তাঁদের তিন বছরের সম্পর্কের একাধিক প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। মেসেঞ্জারে দীর্ঘদিনের কথোপকথনও রয়েছে বলে দাবি তাঁর। তাঁর বক্তব্য, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েই তাঁকে ভারতে ডেকে আনা হয়েছিল। এখন সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাঁড়ানোয় তিনি হতাশ।
এমনকি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নূপুর। তাঁর দাবি, তাঁর জীবনে কোনও অঘটন ঘটলে তার দায় বিমল মজুমদারের। এই বক্তব্যের পর ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পায়। যদিও এখনও পর্যন্ত ওই তরুণীর পক্ষ থেকে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের পর দু’জনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাছে থাকা নথিপত্রও যাচাই করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নথিতে কোনও সমস্যা পাওয়া যায়নি বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। ফলে আপাতত আইনগতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
তবে এই ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। দীর্ঘদিনের অনলাইন সম্পর্ক কতটা বিশ্বাসযোগ্য? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে তা বাস্তবে কতটা নিরাপদ? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, প্রেমের টানে এক দেশ থেকে অন্য দেশে এসে কেউ প্রতারণার শিকার হলে তাঁর আইনি সুরক্ষা কী?
হাবড়ার এই ঘটনাকে ঘিরে এখন তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে, তরুণী বাংলাদেশে ফিরবেন কি না, নাকি বিষয়টি নিয়ে পরে কোনও আইনি পদক্ষেপ হবে—সেদিকেই নজর রয়েছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


