Baruipur BJP Worker Murder: বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুন! বারুইপুরে দলেরই নেতার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

নিহতের নাম বাপি প্রামাণিক। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিজেপিরই এক স্থানীয় নেতা সুজন মণ্ডলের দিকে। পরিবারের অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাপিকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। যদিও পুলিশের বক্তব্য, একটি পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ থেকেই মারামারির সূত্রপাত।

Published on: Aug 24, 2026, 12:36:38 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বারুইপুরের উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতের নাম বাপি প্রামাণিক। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিজেপিরই এক স্থানীয় নেতা সুজন মণ্ডলের দিকে। পরিবারের অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাপিকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যদিও পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, একটি পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ থেকেই মারামারির সূত্রপাত। সেই সংঘর্ষেই গুরুতর জখম হন বাপি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

বারুইপুরের উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য
বারুইপুরের উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য

স্থানীয়দের দাবি, বাপি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বিজেপি কর্মী ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূলের ‘অত্যাচারের’ কারণে প্রায় দশ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে ঘরছাড়া থাকতে হয়েছিল। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি এলাকায় ফিরে আসেন। সম্প্রতি নিজের এলাকায় একটি দোকানও খুলেছিলেন। কিন্তু সেই স্বাভাবিক জীবন বেশিদিন স্থায়ী হল না।

পরিবারের অভিযোগ, গত রবিবার রাতে ফোন করে বাড়ি থেকে বাপিকে ডেকে পাঠানো হয়। এরপর মাঝরাস্তায় তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। তাঁকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই মৃত্যু হয় তাঁর।

নিহতের পরিবারের দাবি, বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডলের পরিকল্পনাতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাপির উপর হামলা চালায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মী বাদল মণ্ডলও একই অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, এলাকায় কয়েকজন বিজেপি কর্মী এক জায়গায় ছিলেন। সেই সময় কয়েকজন তৃণমূল সমর্থক তাঁদের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে খবর পান, বাপির উপর হামলা হয়েছে।

বাদল মণ্ডলের অভিযোগ, “বিজেপির সক্রিয় কর্মী বাপি। আমাদের নেতা বিজেপি নেতা সুজন মণ্ডল ওই দুষ্কৃতীদের নিয়ে মিটিং করছে। আমরা তার বিরোধিতা করেছি। তাই খুন করে দিয়েছে।” অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। এমনকী দোষীদের ফাঁসির দাবিও তোলা হয়েছে।

তবে পুলিশের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, একটি পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে অশান্তি ও মারামারি শুরু হয়। সেই সংঘর্ষেই গুরুতর আহত হন বাপি প্রামাণিক। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এই ঘটনায় জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।

বিজেপি কর্মীর মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য—দুই দিক খতিয়ে দেখেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, নাকি স্থানীয় বিবাদ থেকেই এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষ, তদন্ত শেষেই তা স্পষ্ট হবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More