Baruipur Football match Murder: ফুটবল ম্যাচে হার, প্রতিশোধে কিশোর খুন! বারুইপুরে চাঞ্চল্য, তিনজনকে ধরল পুলিশ
সোমবার বারুইপুরের সীতাকুণ্ড এলাকায় একটি স্থানীয় ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল। এলাকার যুবকরাই দুই দলে ভাগ হয়ে খেলায় অংশ নেন। খেলা শেষে প্রসেনজিতের দল জয়ী হয়। অভিযোগ, সেই পরাজয় মেনে নিতে পারেনি প্রতিপক্ষের কয়েকজন। ম্যাচের পর থেকেই প্রসেনজিতকে লক্ষ্য করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে এক কিশোরকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম প্রসেনজিৎ বিশ্বাস (১৭)। অভিযোগ, স্থানীয় একটি ফুটবল ম্যাচে হারের প্রতিশোধ নিতেই তিন যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রসেনজিতের উপর হামলা চালায়। গলায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে একাধিক কোপ মারার ফলে ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় তিন যুবককে আটক করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে বিস্তারিত তদন্ত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বারুইপুরের সীতাকুণ্ড এলাকায় একটি স্থানীয় ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল। এলাকার যুবকরাই দুই দলে ভাগ হয়ে খেলায় অংশ নেন। খেলা শেষে প্রসেনজিতের দল জয়ী হয়। অভিযোগ, সেই পরাজয় মেনে নিতে পারেনি প্রতিপক্ষের কয়েকজন। ম্যাচের পর থেকেই প্রসেনজিতকে লক্ষ্য করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
খেলা শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন প্রসেনজিৎ। সেই সময় সীতাকুণ্ড এলাকায় তিন যুবক তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয় তাঁকে। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি রাস্তার উপর লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
প্রসেনজিতের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবিতে স্লোগান ওঠে। কিছু সময়ের জন্য এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে রাতেই তিন সন্দেহভাজন যুবককে আটক করে বারুইপুর থানার পুলিশ। তাঁদের মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। অভিযোগ, সেই সময় হাসপাতালের পাশের একটি পুলিশ ক্যাম্পে ভাঙচুরও করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ফুটবল ম্যাচে হারের জেরেই এই হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এর নেপথ্যে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক তিন যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদেরও বক্তব্য রেকর্ড করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই বারুইপুর একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনায় উত্তপ্ত। সম্প্রতি এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার এক অভিযুক্তকে গণপিটুনিতে মৃত্যুর অভিযোগও ওঠে। তার মধ্যেই এবার ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ১৭ বছরের এক কিশোরের খুনের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশের দাবি, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। একই সঙ্গে আটক যুবকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের আশা, জেরার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য শীঘ্রই সামনে আসবে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


