Baruipur: বারুইপুর কাণ্ডে নৃশংসতার নয়া তথ্য! মদ-গাঁজার ঠেকেই গণধর্ষণ, জীবিত অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলার অভিযোগ

যে পুকুর থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল, তার অদূরে একটি ঝুপড়িকে ঘিরেই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই ঝুপড়িতে নিয়মিত মদ ও গাঁজার আসর বসত। তদন্তকারীদের অনুমান, সেখানেই নাবালিকার উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল।

Published on: Jul 7, 2026, 14:39:44 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Baruipur rape and murder Details: বারুইপুরের ১২ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। যে পুকুর থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল, তার অদূরে একটি ঝুপড়িকে ঘিরেই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই ঝুপড়িতে নিয়মিত মদ ও গাঁজার আসর বসত। তদন্তকারীদের অনুমান, সেখানেই নাবালিকার উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জীবিত অবস্থাতেই একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা।

বারুইপুরের ১২ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। (PTI)
বারুইপুরের ১২ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। (PTI)

এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারের পাশাপাশি প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার দিন প্রভাস মণ্ডল কৌশলে নাবালিকাকে ওই ঝুপড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল আনন্দ ও দিবাকর। অভিযোগ, তিনজনই নেশা করার পর কিশোরীর উপর বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতন চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতনের সময় এক অভিযুক্ত নাবালিকার গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে। এছাড়াও মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুমান, ভারী কোনও বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছিল অথবা জোরে কোথাও ঠুকে দেওয়া হয়েছিল। গোপনাঙ্গেও গুরুতর আঘাতের প্রমাণ মিলেছে।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা আরও উদ্বেগজনক। তদন্তকারীদের দাবি, নির্যাতনের জেরে কিশোরী অচৈতন্য হয়ে পড়েছিল। এরপর দীর্ঘক্ষণ তাকে ওই ঝুপড়িতেই ফেলে রাখা হয়। রাত গভীর হলে অভিযুক্তরা দেহ সরানোর পরিকল্পনা করে। প্রথমে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও বস্তাটি ছিঁড়ে যায়। তখন ঘটনাস্থলের পাশের পুকুরেই তাকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে সেই ছেঁড়া বস্তা দিয়েই দেহ ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে 'অ্যান্টিমর্টেম ড্রাউনিং'-এর উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, কিশোরীকে যখন পুকুরে ফেলা হয়, তখনও সে জীবিত ছিল। তদন্তকারীদের মতে, আঘাত ও নির্যাতনের ফলে সে অচৈতন্য হয়ে পড়েছিল। এরপর জলে ফেলে দেওয়ার ফলে ডুবে তার মৃত্যু হয়। কিশোরীর ফুসফুস ও পাকস্থলীতে প্রচুর পরিমাণে জল পাওয়া গিয়েছে, যা এই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে।

এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মৃতার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার পর দ্রুত তল্লাশি চালানো হলে হয়তো কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব ছিল। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি পুলিশ।

পুলিশের দাবি, পুকুরে ফেলে দেওয়ার পর তিন অভিযুক্ত তিনদিকে পালিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে ধৃতদের জেরা করে ঘটনার পূর্ণ চিত্র জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট, ভিসেরা রিপোর্ট এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের আশা, এই রিপোর্টগুলিই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও মৃত্যুর সময় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য তুলে ধরবে। বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার ও কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব বিভিন্ন মহল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More