মুর্শিদাবাদের শ্রমিককে ঝাড়খণ্ডে খুন! রাজ্যের আশ্বাসে বেলডাঙ্গায় উঠল অবরোধ, হেমন্ত বললেন...

এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Published on: Jan 16, 2026, 21:47:00 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আরও এক বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু। ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের এক যুবককে খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে বেলডাঙা। মৃতদেহ গ্রামে ফেরার পরেই শুক্রবার সকাল থেকে জাতীয় সড়ক অবরোধ ও রেল রোকো কর্মসূচিতে নামেন গ্রামবাসীরা। এই পরিস্থিতিতে শান্তিবজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতের পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি এবং ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নীতিন সিংঘানিয়া। এদিকে, এই আশ্বাস পাওয়ায় ৭ ঘণ্টা পর গড়াল ট্রেনের চাকা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কেও উঠেছে অবরোধ।

রাজ্যের আশ্বাসে বেলডাঙ্গায় উঠল অবরোধ (সৌজন্যে টুইটার)
রাজ্যের আশ্বাসে বেলডাঙ্গায় উঠল অবরোধ (সৌজন্যে টুইটার)

জানা গেছে, মৃত শ্রমিকের নাম আলাউদ্দিন শেখ (৩০)। বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা তিনি। পেশায় ফেরিওয়ালা আলাউদ্দিন কাজের সূত্রে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডে তাঁর থাকার ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানতে পারে পরিবার। পরিবার সূত্রে খবর, গত বুধবার দুপুরে শেষবার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। মা সোনা বিবি অশ্রুসজল চোখে জানান, 'ছেলে বলেছিল ওখানকার অবস্থা ভালো নয়, খুব ভয়ে ভয়ে আছে। ঘর থেকে বেরোতে পারছে না। সুযোগ পেলেই বাড়ি ফিরবে বলেছিল।' কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না।ছেলের মৃতদেহ উদ্ধারের পরই তাঁদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, আলাউদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের আরও অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিক হওয়ার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল। এই অভিযোগ ঘিরেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরুদ্ধ

শুক্রবার সকালে আলাউদ্দিন শেখের নিথর দেহ গ্রামে পৌঁছাতেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে পথে নামেন সুজাপুর ও কুমারপুরের গ্রামবাসীরা। বেলডাঙা স্টেশনে আটকে দেওয়া হয় ট্রেন। তার ফলে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহক হয়। পাশাপাশি ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে উত্তেজিত জনতা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকায় কলকাতা-উত্তরবঙ্গগামী যান চলাচলে সমস্যা হয়। এই অবরোধের জেরে দু’দিকে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। শতাধিক বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকে পড়ে, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। মাঝে দফায় দফায় অবরোধকারীদের সঙ্গে প্রশাসনিক আধিকারিকদের কথা হয়। তবে তাতেও লাভ কিছুই হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী। উত্তেজিত জনতার দাবি, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি চেয়ে পথে নামেন তাঁরা।

নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি

এদিন দুপুরের দিকে জেলা পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকের সঙ্গে কথা হয় বিক্ষোভকারীদের। নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের এক সদস্যের সরকারি চাকরি এবং আর্থিক সাহায্যের আশ্বাসে অবস্থান বদল করেন আন্দোলনকারীরা। প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ-অবরোধের পর রেল এবং পথ অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। জেলাশাসক বলেন, 'আমাদের আলোচনা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। চাকরির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। অভিযুক্তের যা উচিত শাস্তি হওয়ার কথা সে ব্যবস্থা করা হবে। আমরা আজকেই কন্ট্রোল রুম খুলছি। লিগাল টাস্কফোর্স তৈরি হচ্ছে। যাতে কারও কোনও সমস্যা হলে যোগাযোগ করতে পারেন।' পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর তদন্তে শুক্রবার ঝাড়খণ্ডে যাচ্ছেন বাংলার পুলিশ আধিকারিকরা, জানান জেলা পুলিশ সুপার।

ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস

এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝাড়খণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকের হত্যায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের একটি সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে তাঁর রাজ্যের পুলিশ। হেমন্ত সোরেন অভিষেককে আশ্বাস দিয়েছেন, এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে তাঁর পুলিশ। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের ধরা হবে। অন্যদিকে, এদিন নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে যান বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনিও জানান, ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। দোষীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে আইনত শাস্তি দেওয়ার দাবি জানাবেন।