Bhawanipore Ashram Threatened by TMC: 'বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের ছায়া…ভবানীপুরে সনাতন ধর্ম প্রচার করা অপরাধ?'

অভিযোগ, অসীম বসু নাকি যদুবাবুর বাজার ও পদ্মপুকুর এলাকার কাছে অবস্থিত একটি আশ্রমে গিয়ে সেখান থেকে সাধুদের চলে যেতে বলেন। অসীমের অভিযোগ, এরা নাকি সাধু বেশে 'ভণ্ড'। সেই সাধুরা নাকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুরির ফন্দি আঁটছেন। বীরভূম থেকে হালিশহর, বিভিন্ন জায়গা থেকে সেখানে সাধুরা এসে ছিলেন।

Published on: Apr 11, 2026 7:38 AM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভবানীপুরে একটি আশ্রমে গিয়ে সাধুদের ওপর হামলা এবং তাঁদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের নামে। ঘটনায় অভিযুক্ত অসীম বসু নিজেই আবার সেই আশ্রমে গিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনার 'ফেসবুক লাইভ স্ট্রিমিং' করেছিলেন। এখন সেই ভিডিয়ো হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজেপির। অভিযোগ, অসীম বসু নাকি যদুবাবুর বাজার ও পদ্মপুকুর এলাকার কাছে অবস্থিত একটি আশ্রমে গিয়ে সেখান থেকে সাধুদের চলে যেতে বলেন। অসীমের অভিযোগ, এরা নাকি সাধু বেশে 'ভণ্ড'। সেই সাধুরা নাকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুরির ফন্দি আঁটছেন। বীরভূম থেকে হালিশহর, বিভিন্ন জায়গা থেকে সেখানে সাধুরা এসে ছিলেন। এবং 'বহিরাগত' সেই সাধুদের অবিলম্বে ভবানীপুর ছাড়ার হুঁশিয়ারি দেন তৃণমূল নেতা।

ভবানীপুরে একটি আশ্রমে গিয়ে সাধুদের ওপর হামলা এবং তাঁদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের নামে।
ভবানীপুরে একটি আশ্রমে গিয়ে সাধুদের ওপর হামলা এবং তাঁদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের নামে।

অভিযুক্ত অসীম সেই আশ্রমের দায়িত্বে থাকা সন্ন্যাসীকে নাকি হুমকি দিয়ে আসেন, যদি এখান থেকে অন্য এলাকার সাধুদের বের করে দেওয়া না হয়, তাহলে সেই আশ্রমের বিদ্যুৎ ও জল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। ঘটনায় এক সাধু অভিযোগ করেন, তাঁর ঘাড়ে ধরে আঘাত করেছেন অসীম বসু। এমনকী সাধুদের কাছ থেকে তাঁদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। এদিকে অভিযুক্ত অসীমের বক্তব্য, 'আমাকে এলাকাবাসীরা বলছিলেন, গেরুয়া বসন পরে সাধুরা আসছে, লিফলেট দিচ্ছে। আমি ডোর টু ডোর করছিলাম, তখন দেখলাম ২০-২৫ জন সাধু। তাঁরা বাড়ি বাড়ি ঢুকে পড়ছিলেন, ছবি তুলছিলেন, মহিলারা এখানে নিরাপদ বোধ করছেন না। আমাকে অনেক মহিলা ফোন করে অভিযোগ করেন। তাই আমি সেখানে গিয়েছিলাম।' এদিকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেই আশ্রমের দায়িত্বে থাকা সন্ন্যাসী বলেন, 'সিপিএমের ৩৪ বছর সময়তেও এমনটা হয়নি। তৃণমূলের সময় এমনটা হল।'

এদিকে এই ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারী সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি বিজেপির প্রার্থী। এহেন শুভেন্দু দাবি করেন, সেই সাধুরা মূলত কালিঘাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সনাতন ধর্মের প্রচার চালাচ্ছিলেন। বিজেপি নেতার অভিযোগ, তৃণমূল কাউন্সিলর তাঁর অনুগামীদের নিয়ে গিয়ে সেখানে সাধুদের ভয় দেখিয়েছেন। এই আবহে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার প্রশ্ন, 'ভবানীপুরে কি সনাতন ধর্ম প্রচার করা অপরাধ?' তিনি বলেন, 'ক্ষমতার অপব্যবহার করে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।'

পরে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শুভেন্দু লেখেন, 'বাংলাদেশের তদানীন্তন ইউনুস-সরকারের ছায়া যেন ভবানীপুরে দেখা যাচ্ছে! ভবানীপুরের পদ্মপুকুর এলাকার একটি আশ্রমে আগত কিছু সাধুসন্ত কালিঘাট ও আশেপাশের এলাকায় সনাতন ধর্মের প্রচার করছিলেন। কিন্তু আজ সেখান থেকে তাঁদের অসম্মান করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয় এবং পরে ভবানীপুর বিধানসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের ছাপ্পা কাউন্সিলর অসীম বসু তাঁর দুষ্কৃতী বাহিনী নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে আশ্রমে উপস্থিত হয়ে গেরুয়াধারী সাধুসন্তদের পোশাকের কলার ধরে হুমকি দেন, ভয় দেখান, মোবাইল কেড়ে নেন এবং চোর অপবাদ দিয়ে আশ্রম থেকে বের করে দেন। শুধু তাই নয়, আশ্রমের জল ও বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে রাখা হয়। তাহলে কি দাঁড়ালো? ভবানীপুরে কি সনাতন ধর্ম প্রচার করা অপরাধ? মাননীয়া, আপনি কি তাহলে তোষণের রাজনীতির স্বার্থে আপনার লেঠেল বাহিনী ব্যবহার করে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন? হিন্দুবিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস জেনে রাখুন, এই অত্যাচার আর বেশিদিন চলবে না। প্রতিটি অন্যায়ের হিসাব হবে। সনাতনীদের আত্মসম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করুন। হিন্দু সমাজ আর চুপ করে সহ্য করবে না। কথা দিলাম, এবার ৪ঠা মে-র পর প্রতিটি অন্যায়ের হিসাব হবে।'

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More