উৎসবের মরশুমে বাংলার জন্য বড় সুখবর, কেন্দ্রের কাছ থেকে ৭৮৬৬ কোটি টাকা পেল রাজ্য

কেন্দ্রীয় করের ভাগ হিসাবে রাজ্যকে ৭৮৬৬ কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর দেশের ২৮টি রাজ্যের জন্য মোট ১ লক্ষ ৯ হাজার ১৯ কোটি টাকা ছাড় করেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। সাধারণত প্রতি মাসের ১০ তারিখে রাজ্যগুলিকে করের ভাগের টাকা দেওয়া হয়।

Published on: Nov 6, 2026, 10:13:16 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

উৎসবের মরশুমে পশ্চিমবঙ্গের কোষাগারে এল বড় অঙ্কের অর্থ। কেন্দ্রীয় করের ভাগ হিসাবে রাজ্যকে ৭৮৬৬ কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর দেশের ২৮টি রাজ্যের জন্য মোট ১ লক্ষ ৯ হাজার ১৯ কোটি টাকা ছাড় করেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। সাধারণত প্রতি মাসের ১০ তারিখে রাজ্যগুলিকে করের ভাগের টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু উৎসবের মরশুমে রাজ্যগুলির আর্থিক চাপের কথা মাথায় রেখে এ বার নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিন আগেই টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী দিনে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে খরচের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা পাবে রাজ্যগুলি।

কেন্দ্রীয় করের ভাগ হিসাবে রাজ্যকে ৭৮৬৬ কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় সরকার। (@cmowbgov X)
কেন্দ্রীয় করের ভাগ হিসাবে রাজ্যকে ৭৮৬৬ কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় সরকার। (@cmowbgov X)

কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এই দফায় সব রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের কোষাগারে জমা পড়েছে ১৯ হাজার ২০৮ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিহার। নীতীশ কুমারের রাজ্য পেয়েছে ১০ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে মধ্যপ্রদেশ। ওই রাজ্যের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৮০১০ কোটি টাকা। চতুর্থ স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বাংলার প্রাপ্তি ৭৮৬৬ কোটি টাকা। পঞ্চম স্থানে থাকা মহারাষ্ট্র পেয়েছে ৭০২২ কোটি টাকা।

এ ছাড়াও রাজস্থান পেয়েছে ৬৪৬০ কোটি টাকা। ওড়িশার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪৮১৯ কোটি টাকা। অন্ধ্রপ্রদেশ পেয়েছে ৪৫৯৭ কোটি টাকা। কর্নাটক এবং তামিলনাড়ুর প্রাপ্তি যথাক্রমে ৪৫০৪ কোটি ও ৪৪৬৬ কোটি টাকা। গুজরাতের ভাগে জুটেছে ৪০৯৪ কোটি টাকা। অন্য দিকে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে অসম পেয়েছে ৩৫৫২ কোটি টাকা। ত্রিপুরার বরাদ্দ ৬৯৯ কোটি টাকা। সিকিম পেয়েছে ৩৬৫ কোটি টাকা। তালিকায় সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে সিকিম।

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, উৎসবের মরশুমে রাজ্যগুলির হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকলে মূলধনী খাতে খরচ বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগানও নিশ্চিত করা যাবে। বিশেষ করে পরিকাঠামো নির্মাণ, রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ, পানীয় জল এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রগুলিতে খরচের গতি বাড়াতে এই অর্থ সাহায্য করবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, ৫ নভেম্বরের এই অর্থ ছাড়কে নতুন কোনও বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ হিসাবে দেখার অবকাশ নেই। এটি কেন্দ্রীয় করের নিয়মিত মাসিক কিস্তি। শুধু নির্ধারিত ১০ নভেম্বরের পরিবর্তে ৫ নভেম্বর তা রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে। এর আগে ৩১ অক্টোবরও রাজ্যগুলিকে অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৯ হাজার ১৯ কোটি টাকা দিয়েছিল কেন্দ্র। অর্থাৎ, কয়েক দিনের ব্যবধানে দু'দফায় মোট ২ লক্ষ ১৮ হাজার ৩৮ কোটি টাকা রাজ্যগুলির জন্য ছাড়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই অর্থপ্রাপ্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি সরকারি পরিষেবা ও জনকল্যাণমূলক খাতে নিয়মিত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। সেই জায়গায় কেন্দ্রীয় করের ভাগ আগাম হাতে আসায় রাজ্যের আর্থিক পরিকল্পনায় কিছুটা সুবিধা হবে। এখন দেখার, এই অর্থ কোন কোন খাতে এবং কত দ্রুত খরচ করে রাজ্য সরকার।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More