ভ্রমণবিলাসীদের জন্য সুখবর! হলং বনবাংলো নিয়ে বড় আপডেট, পর্যটকদের মুখে ফুটবে চওড়া হাসি

১৯৬৭ সালে মাদারিহাটে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল হলং বনবাংলো।

Published on: Feb 21, 2026, 16:46:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

২০২৪ সালে এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় জলদাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী হলং বনবাংলো। রাজ্য পর্যটন দফতরের অধীনে থাকা আইকনিক এই বনবাংলো রাজ্য তো বটেই, রাজ্যের বাইরের পর্যটকদের কাছে ছিল এক আকর্ষণের জায়গা। সেই বন বাংলোকেই এবার নতুন রূপে ফিরিয়ে আনার পথে রাজ্য সরকার।

হলং বনবাংলো নিয়ে বড় আপডেট (সৌজন্যে টুইটার)
হলং বনবাংলো নিয়ে বড় আপডেট (সৌজন্যে টুইটার)

বন দফতর সূত্রে খবর, আগুনের ঝুঁকি এড়াতে এবার আধুনিক প্রযুক্তি ও অগ্নিরোধী উপকরণ ব্যবহার করে পুনর্নির্মাণ করা হবে বাংলোটি। কাঠের ঐতিহ্য বজায় রেখেই কাঠ ও কংক্রিটের মিশেলে গড়ে তোলা হবে নতুন স্থাপনা। বলে রাখা ভালো, ১৯৬৭ সালে মাদারিহাটে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের মধ্যে তৈরি করা হয়েছিল হলং বনবাংলো। তৈরির পর থেকেই প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণের সান্নিধ্যে থাকার অনন্য অভিজ্ঞতার জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই বাংলো। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৮ জুন রাত ৯টা নাগাদ এক ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় কাঠের তৈরি এই বনবাংলোটি। সেই সময় ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত এই বনবাংলোর অগ্নিকাণ্ডের খবরে শুধু পর্যটকরাই নন, শোকাহত হন বন দফতর ও পর্যটন দফতরের আধিকারিকরাও। পর্যটন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে পর্যটকরা চাইছিলেন এই বাংলোটি তৈরি করা হোক নতুন করে।

জানা গেছে, পুড়ে যাওয়ার আগে এই বাংলোতে কাঠের আটটি কক্ষ ছিল। পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যক কক্ষ রাখা হবে বলে জানিয়েছে বন দফতর। তবে এবার নির্মাণে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। কারণ, আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত অরণ্যের ভিতরে সরাসরি কংক্রিটের নির্মাণে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই বিশেষ প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কাঠের সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রেখে কাঠ ও কংক্রিটের সমন্বয়ে নিরাপদ কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অগ্নিরোধী পদার্থ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রুখতে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পুনর্নির্মাণের সমস্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ। বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার হাতে ইতিমধ্যেই জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলো পুনর্নির্মাণে রাজ্য সরকার আট কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। বন দফতর সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনী আচরণবিধি জারির আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কোনও দিন এই প্রকল্পের শিলান্যাস করতে পারেন। শিলান্যাসের পরই পূর্ণমাত্রায় নির্মাণকাজ শুরু হবে। ঐতিহ্য ও নিরাপত্তার সমন্বয়ে হলং বনবাংলোকে নতুনভাবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আনবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।