টিকিট পাচ্ছেন অধিকাংশ বিধায়কই! প্রধানমন্ত্রীর নিবাসে ১৫০ পদ্ম প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ধাপে ধাপে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকা প্রকাশে যথেষ্ট দেরিও হয়েছিল। এবার সেই পরিস্থিতি এড়াতে আগেভাগেই প্রস্তুতি সেরে ফেলতে চাইছে দল।

Published on: Mar 13, 2026 12:47 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গেলে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি বিধায়কদের। বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠকে বসেছিল দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। সূত্রের খবর, ১৫০-র বেশি আসনে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে সেই বৈঠকে। বর্তমান বিধায়কদের সিংহভাগই আবার টিকিট পাচ্ছেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নিবাসে ১৫০ পদ্ম প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ
প্রধানমন্ত্রীর নিবাসে ১৫০ পদ্ম প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ

রাজ্যে এই মুহূর্তে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৬৫। তাঁদের মধ্যে কতজন আবার টিকিট পাচ্ছেন, ক’জনই বা বাদ পড়ছেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাংশ এবং দার্জিলিং পাহাড়ের তিনটি আসন ছাড়া প্রায় সব আসন নিয়েই রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সেরে নিয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারের অতিথি নিবাসে আয়োজিত বৈঠকেই সেই আলোচনা সেরে নেওয়া হয়েছিল। অধিকাংশ আসনের জন্য তিনটি করে এবং কিছু আসনের জন্য চারটি করে নাম বেছে নেওয়া হয়েছিল। এরপর বুধ ও বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নেতারা দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। বিজেপি সূত্রের খবর, জেপি নাড্ডার বাসভবনে পর পর দু’দিনের বৈঠকে ১৫০-টির বেশি আসনে প্রার্থীদের নাম নির্ধারিত হয়েছে। দীর্ঘ কাটাছেঁড়ার পরেই প্রার্থী বাছাই করা হয়।এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে সেই তালিকা চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

কতজন বিধায়ক টিকিট পাচ্ছেন?

প্রধানমন্ত্রী নিবাসের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির তরফে ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ছিলেন দুই সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী ও সতীশ ঢোন্ড। ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর এবং সাংসদ মনোজ টিগ্গাও। তাঁরা প্রায় ঘণ্টা তিনেক প্রধানমন্ত্রী আবাসে ছিলেন। তবে বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে এই বিষয়ে কেউ কোনও মন্তব্য করেনি। সূত্রের খবর, দলের জেতা আসন এবং সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় আসনগুলি নিয়েই সর্বাগ্রে আলোচনা সেরে ফেলা হয়েছে। বর্তমান বিধায়কদের ৮০-৯০ শতাংশই টিকিট পাচ্ছেন। বাকি ১০-১৫ শতাংশ বিধায়ককে টিকিট দেওয়া হবে না। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থতার কারণে নিজেরাই লড়তে চান না। কয়েক জন নতুন মুখকেও প্রার্থী করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। বিজেপির পুরনো কয়েক জন নেতাকেও এবার প্রার্থী করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ধাপে ধাপে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকা প্রকাশে যথেষ্ট দেরিও হয়েছিল। এবার সেই পরিস্থিতি এড়াতে আগেভাগেই প্রস্তুতি সেরে ফেলতে চাইছে দল। নির্বাচন কমিশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেই অন্তত ১৫০ আসনের প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর।