BJP Extortion Row: তোলাবাজি-দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’, রাজ্য বিজেপিকে কড়া বার্তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের

 দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং তোলাবাজি-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করতে বৃহস্পতিবার সল্টলেকের বিজেপির রাজ্য দফতরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন দলের পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল।

Published on: Aug 7, 2026, 10:26:57 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরও তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত। বিরোধী দল হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে এসেছে বিজেপি। কিন্তু সম্প্রতি দলের একাংশের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় এবার কঠোর অবস্থান নিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং তোলাবাজি-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করতে বৃহস্পতিবার সল্টলেকের বিজেপির রাজ্য দফতরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন দলের পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল।

সম্প্রতি দলের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসায় এবার কঠোর অবস্থান নিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
সম্প্রতি দলের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসায় এবার কঠোর অবস্থান নিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বারবার দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন। সেই অবস্থানকেই আরও জোরালো করে এদিন জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বনসল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কোনও কাজ বরদাস্ত করা হবে না। তোলাবাজি, সিন্ডিকেট কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে সরাসরি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রে খবর, বুথ স্তর থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত শৃঙ্খলাভঙ্গের একাধিক অভিযোগ সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন কর্মী ও পদাধিকারীকে বহিষ্কার কিংবা সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির পুরোপুরি পরিবর্তন হয়নি বলেই মনে করছে নেতৃত্ব। সেই কারণেই জেলা ধরে ধরে বিশেষ বৈঠক শুরু করেছেন সুনীল বনসল। বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় কলকাতা উত্তর শহরতলি এবং বারাসত সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক হয়।

বৈঠকে বনসল স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, 'গলতি একবার হোতি হ্যায়, বারবার গলতি নেহি হোতি। আজকে বাদ কই গলতি হোগা অর কই গলত কাম করেগা, উসকে খিলাফ ব্যবস্থা লিয়া জায়েগা।' অর্থাৎ ভুল একবার হতে পারে, কিন্তু একই ভুল বারবার করলে আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। দলবিরোধী বা নীতিবিরুদ্ধ কাজে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়ে দেন।

বৈঠকে নিচুতলার সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, কোনও জেলা সভাপতি বা বিধায়কের সিদ্ধান্তই এককভাবে চূড়ান্ত হবে না। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সকলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে জেলা কোর কমিটিকে ছোট ও কার্যকর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সমন্বয় বজায় রেখে দ্রুত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

এছাড়াও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দলের মধ্যে কোনওভাবেই তোলাবাজি, সিন্ডিকেট-রাজ কিংবা বেআইনি প্রভাব খাটানোর সংস্কৃতি চলবে না। তৃণমূল আমলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল, এমন কোনও দুষ্কৃতীকে দলে জায়গা না দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়গুলির উপর নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজেপির বিধায়কদেরও।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আরও জানিয়ে দিয়েছে, জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনও নীতিবিরোধী কাজ বা দুর্নীতির অভিযোগ এলে তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থানীয় নেতৃত্বকেও দায় নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখাই এখন তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই দলবিরোধী কার্যকলাপের ক্ষেত্রে কোনও আপস নয়—এই বার্তাই এদিন স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন সুনীল বনসল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More