তৎপর পদ্ম শিবির! ভোট ঘোষণা হতেই বৈঠকে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব, তালিকা-চর্চা...
দু’এক দিনের মধ্যেই দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আবার পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বলে খবর।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই তৎপর হয়ে উঠল রাজনৈতিক দলগুলি। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পরই জরুরি বৈঠকে বসল বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। রবিবার বিকেল পৌনে ৪টে নাগাদ নিউ টাউনের একটি হোটেলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসে। সেখানে মূলত বাকি আসনগুলির প্রার্থী চূড়ান্ত করা ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। পাশাপাশি সংগঠনের সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব, অমিত মালব্য ও বিপ্লব দেবও বৈঠকে যোগ দেন। প্রায় চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এই বৈঠক। আর এই বৈঠক শুরু হওয়ার মিনিট ১৫-র মধ্যে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নয়া দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক শুরু করেন। বিজেপি সূত্রে খবর, বৈঠকে বসে নির্বাচনের নির্ঘণ্টের উপর নজর রাখছিলেন তাঁরা। ঘোষণা শেষ হওয়া মাত্রই বিজেপির বৈঠকে ভোটপর্বের কৌশল, প্রচার ও প্রার্থী বাছাই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয়।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই জনসংযোগ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিল বিজেপি। ১ মে থেকে শুরু হওয়া 'পরিবর্তন যাত্রা' কর্মসূচি ১০ মে পর্যন্ত চলে ও ১৪ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশের মাধ্যমে তার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়। ওই সমাবেশে ব্যাপক ভিড়কে সংগঠনের সাফল্য হিসেবে দেখছে বিজেপি নেতৃত্ব। সেই উৎসাহকেই পুঁজি করে এবার ভোটের প্রস্তুতিকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই সংক্রান্ত পরিকল্পনার প্রাথমিক আলোচনা হয়ে গিয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে অবশিষ্ট প্রার্থী তালিকা নিয়েও। এর আগে ১২ মার্চ দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। রাজ্যে এই মুহূর্তে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৬৫। তাঁদের মধ্যে কত জন আবার টিকিট পাচ্ছেন, ক’জন বাদ পড়ছেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। সূত্রের খবর, ২৯৪টি আসনের মধ্যেসেখানে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রায় ১৫৫টি আসনের প্রার্থী নিয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বাকি ১৩৯টি আসনের প্রার্থী তালিকাও দ্রুত চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে দল।
দু’এক দিনের মধ্যেই দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আবার পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বলে খবর। সেই বৈঠকের আগে রাজ্যস্তরে যে আলোচনা দরকার ছিল, তা রবিবার বৈঠকে সেরে নেওয়া হল। সব মিলিয়ে সামান্য কিছু আসন ছাড়া সিংহ ভাগ আসনের জন্য রাজ্যস্তরে আলোচনা হয়ে গিয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে চূড়ান্ত আসন নিয়ে টুকিটাকি আলোচনা বাকি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, বৈঠক শেষ করেই রবিবার রাতেই দিল্লি রওনা দেন সুকান্ত মজুমদার। সোমবার সকালে দিল্লি যাওয়ার কথা রয়েছে শমীক ভট্টাচার্যেরও। রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আমন্ত্রণে সাংসদদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সংসদের অধিবেশনে যোগ দেবেন তাঁরা। এরপর বিকেলে বা মঙ্গলবার ফের পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের নিয়ে দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বৈঠক করতে পারে বলে খবর। তবে ১৫৫টি আসনের জন্য তালিকা যেহেতু প্রায় তৈরি আছে, সেহেতু আসন নিয়ে দিল্লিতে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের আগেই প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
রবিবার বিকেলে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে বলে জানিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে রাজ্যের ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে। দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হবে দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলার মোট ১৪২টি আসনে। ভোটের ফলঘোষণা আগামী ৪ মে, সোমবার।
E-Paper











