BJP Leader Controversial Comment: ‘সুন্দরী মহিলা আনুন, নয়তো পুরনোদের ছাঁটাই’, কাটোয়ায় বিজেপি নেতার মন্তব্য ঘিরে তুলকালাম

অভিযোগ, কাটোয়া নগর বিজেপির সভাপতি সুমন দেবনাথ দলের মহিলা সংগঠন নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন, যা ঘিরে দলীয় কর্মীদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুরনো মহিলা কর্মীদের সরিয়ে তাঁদের জায়গায় ‘সুন্দরী ও শিক্ষিত’ মহিলাদের আনার কথা বলেছেন তিনি।

Published on: Oct 5, 2026, 11:57:49 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

দলে নতুন মুখ আনার নীতি নিয়ে বারবারই কড়া বার্তা দিচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু সেই ‘নতুন মুখ’ আনার নির্দেশ নিয়েই এ বার অস্বস্তিতে পড়ল কাটোয়ার গেরুয়া শিবির। অভিযোগ, কাটোয়া নগর বিজেপির সভাপতি সুমন দেবনাথ দলের মহিলা সংগঠন নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন, যা ঘিরে দলীয় কর্মীদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুরনো মহিলা কর্মীদের সরিয়ে তাঁদের জায়গায় ‘সুন্দরী ও শিক্ষিত’ মহিলাদের আনার কথা বলেছেন তিনি। এমনকি নতুনদের না আনতে পারলে পুরনো মহিলা কর্মীদের ছাঁটাই করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।

অভিযোগ, কাটোয়া নগর বিজেপির সভাপতি সুমন দেবনাথ দলের মহিলা সংগঠন নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন, যা ঘিরে দলীয় কর্মীদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ, কাটোয়া নগর বিজেপির সভাপতি সুমন দেবনাথ দলের মহিলা সংগঠন নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন, যা ঘিরে দলীয় কর্মীদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

রাতভর দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ

রবিবার রাতে কাটোয়া শহরে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে দলেরই একাংশ বিক্ষোভ দেখান। মহিলা কর্মীদের পাশাপাশি কয়েক জন পুরুষ নেতা ও কর্মীকেও বিক্ষোভে সামিল হতে দেখা যায়। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ শুরু হওয়া সেই বিক্ষোভ দফায় দফায় চলে বলে জানা গিয়েছে।

সেই সময় দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন সুমন দেবনাথ। তাঁকে ঘিরেই ক্ষোভ উগরে দেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করা মহিলা কর্মীদের সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। তার পরিবর্তে সম্প্রতি দলে আসা কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

‘সুন্দরী ও শিক্ষিত’ মন্তব্যেই আপত্তি

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সুমন দেবনাথ বলেছেন, সংগঠনে আরও বেশি সংখ্যায় সুন্দরী এবং শিক্ষিত মহিলাদের আনতে হবে। তা না হলে পুরনো মহিলা কর্মীদের সরিয়ে নতুন মুখকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এই মন্তব্যেই ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। দলীয় কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, মহিলাদের সাংগঠনিক দক্ষতার বদলে তাঁদের চেহারা দিয়ে বিচার করা হলে তা শুধু অপমানজনক নয়, দলের দীর্ঘদিনের কর্মীদের প্রতিও অসম্মান।

অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন কর্মসূচিতেও পুরনো মহিলা নেত্রীদের যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে নতুনদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ফলে এতদিন দলের হয়ে কাজ করা কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ জমছিল। রবিবারের ঘটনার মাধ্যমে সেই ক্ষোভই প্রকাশ্যে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পদত্যাগের দাবিও উঠেছে

বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, এমন মন্তব্যের পর কাটোয়া নগর সভাপতির পদে থাকার নৈতিক অধিকার সুমনের নেই। তাই তাঁর পদত্যাগের দাবিও ওঠে। দলের ভিতরের এই প্রকাশ্য কোন্দল ভোটের আগে বিজেপির স্থানীয় সংগঠনকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

এরই মধ্যে সুমন দেবনাথের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগের রেশ কাটেনি। কাটোয়ার বিএলআরও দফতরের এক কর্মীর কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর এবং আরও কয়েক জন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার নিষ্পত্তির আগেই নতুন করে মহিলা কর্মীদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসায় চাপ আরও বেড়েছে।

সব অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন নগর সভাপতি

যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুমন দেবনাথ। তাঁর দাবি, কারও কোনও অভিযোগ থাকলে দলের নির্দিষ্ট সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় তা জানাতে হয়। কিন্তু সেই পথ না মেনে তাঁকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সুমনের কথায়, দলীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জানানোর বদলে তাঁকে ঘিরে প্রচার চালিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। তবে এই ভাবে তাঁকে চাপে ফেলা যাবে না বলেও দাবি করেছেন তিনি।

উচ্চ নেতৃত্বের নীরবতা

ঘটনা ঘিরে এখনও পর্যন্ত বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে স্থানীয় স্তরে এই মন্তব্যের জেরে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা কী ভাবে সামলাবে দল, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

এক দিকে বিজেপি বাংলার সংগঠনে নতুন প্রজন্ম এবং নতুন মুখকে জায়গা দেওয়ার কথা বলছে। অন্য দিকে সেই নীতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে যদি পুরনো কর্মীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তা হলে তার রাজনৈতিক মূল্যও দিতে হতে পারে।

কাটোয়ার ঘটনাও তাই নিছক স্থানীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে আটকে থাকছে না। ‘নতুন মুখ’ আনার নামে পুরনোদের অবজ্ঞা করা হচ্ছে কি না, দলের মহিলা কর্মীদের কী ভাবে দেখা হচ্ছে এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে কতটা স্বচ্ছতা রয়েছে, সেই প্রশ্নই এখন সামনে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More