BJP MLA Showcaused by Party: সুকান্তকে অপমান! দল শোকজ করল গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়কে

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি লাইভ ভিডিও করেন গঙ্গারামপুরের বিধায়ক। সেখানেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা বিপ্লব মিত্রকে নিশানা করেন তিনি। বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, তৃণমূলের কয়েকজন ক্ষমতাচ্যুত নেতার সঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের ‘মাখো মাখো’ সম্পর্ক রয়েছে। 

Published on: Aug 27, 2026, 09:10:26 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘মাসতুতো ভাই’ বলে কটাক্ষ। দলেরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্যের পরিচিত মুখ সুকান্ত মজুমদারকে নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য। আর সেই মন্তব্যের জেরেই এবার দলের শাস্তির মুখে গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং রাজ্য নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে অপমান করার অভিযোগে তাঁকে শোকজ করেছে বিজেপি। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাঁকে শোকজের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের কয়েকজন ক্ষমতাচ্যুত নেতার সঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের ‘মাখো মাখো’ সম্পর্ক রয়েছে।
বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের কয়েকজন ক্ষমতাচ্যুত নেতার সঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের ‘মাখো মাখো’ সম্পর্ক রয়েছে।

জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ফেসবুকে একটি লাইভ ভিডিও করেন গঙ্গারামপুরের বিধায়ক। সেখানেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা বিপ্লব মিত্রকে নিশানা করেন তিনি। বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, তৃণমূলের কয়েকজন ক্ষমতাচ্যুত নেতার সঙ্গে সুকান্ত মজুমদারের ‘মাখো মাখো’ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বক্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর চর্চা।

শুধু ফেসবুক লাইভেই নয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সামনেও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সত্যেন্দ্রনাথ রায়ের বিরুদ্ধে। এর পরেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয় বিজেপির দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে খবর, বিধায়কের মন্তব্যের বিষয়টি জানিয়ে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার রাজ্য নেতৃত্ব পদক্ষেপ করল।

বুধবার বিকেলে গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়কের কাছে শোকজের চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সুপারিশ এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, সত্যেন্দ্রনাথ রায়ের বক্তব্যকে দলের ভাবমূর্তি এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে মনে করেছে রাজ্য নেতৃত্ব।

শোকজ নোটিসে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে তাঁকে উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা কী, কেন তিনি ওই ধরনের মন্তব্য করেছেন এবং দলীয় অবস্থানকে পাশ কাটিয়ে প্রকাশ্যে এমন অভিযোগ তোলার কারণ কী—মূলত সেই বিষয়গুলিই জানতে চাওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপির অন্দরে বিধায়কের মন্তব্য নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও খবর। বিশেষ করে দলের রাজ্য সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ করা এক জিনিস, কিন্তু দলেরই শীর্ষস্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য মন্তব্য করা দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে বিজেপি সূত্রের দাবি।

অন্যদিকে, ‘বিজেপি ও তৃণমূলের নেতা মাসতুতো ভাই’—এই ধরনের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। বিজেপি বরাবরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা বলে। সেই দলেরই একজন বিধায়কের মুখে দুই দলের নেতাদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় স্বাভাবিকভাবেই তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

যদিও শোকজের বিষয়টি সামনে আসার পর গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায়ের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তিনি দলীয় নোটিসের জবাবে কী বলেন, সেটাই এখন নজরে। তাঁর জবাবের পরেই রাজ্য নেতৃত্ব পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় ফের একবার বিজেপির অন্দরের মতবিরোধ ও দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এল। সাত দিনের মধ্যে বিধায়কের জবাব পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আরও কোনও সাংগঠনিক পদক্ষেপ করা হবে কি না, এখন সেটাই দেখার।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More