BJP MLA on Party worker's Dadagiri: ‘দাদাগিরির রাজনীতি নয়’, দলীয় কর্মীদের কড়া বার্তা জিতেন্দ্র তিওয়ারির
মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করার রাজনীতির বিরুদ্ধে এবার সরাসরি মুখ খুললেন পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। প্রকাশ্য সভা থেকে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে যে ধরনের দাদাগিরির সংস্কৃতি দেখা গিয়েছিল, বিজেপিতে তার কোনও জায়গা নেই।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর বিজেপির অন্দরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা আরও জোরালো হচ্ছে। দলের নাম ভাঙিয়ে দাদাগিরি, প্রভাব খাটানো কিংবা মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করার রাজনীতির বিরুদ্ধে এবার সরাসরি মুখ খুললেন পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। প্রকাশ্য সভা থেকে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে যে ধরনের দাদাগিরির সংস্কৃতি দেখা গিয়েছিল, বিজেপিতে তার কোনও জায়গা নেই।

পাণ্ডবেশ্বরে আয়োজিত এক দলীয় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিতেন্দ্র বলেন, কেউ যদি মনে করেন তাঁর সঙ্গে ঘোরাফেরা করে, ছবি তুলে বা পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করবেন, তাহলে সেই ধারণা ভুল। এমন মানসিকতার লোকেদের বিজেপিতে বেশি দিন জায়গা হবে না বলেও কড়া সতর্কবার্তা দেন তিনি।
বিধায়কের বক্তব্য, ভয় দেখিয়ে বা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ। বিজেপি মানুষের সমর্থন ও বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে রাজনীতি করতে চায়। তাই দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তার, তোলাবাজি বা দাদাগিরির মতো আচরণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাজনীতি করতে হলে মানুষের দরজায় যেতে হবে, তাঁদের কথা শুনতে হবে এবং তাঁদের আস্থা অর্জন করতে হবে। মানুষের ভালোবাসা ও সম্মানই একজন রাজনৈতিক কর্মীর সবচেয়ে বড় পরিচয়।
জিতেন্দ্র তিওয়ারি আরও বলেন, বিজেপির পতাকার তলায় কাজ করতে চাইলে মানুষের সঙ্গে সম্মানের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। ভয় দেখিয়ে সাময়িকভাবে কিছু অর্জন করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে মানুষের সমর্থন পাওয়া যায় না। তাই জনসংযোগ, স্বচ্ছ আচরণ এবং মানুষের পাশে থাকার মাধ্যমেই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিককে সম্মান জানানো এবং তাঁদের আস্থা অর্জন করাই দলের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, জিতেন্দ্র তিওয়ারির এই মন্তব্য শুধু কর্মীদের উদ্দেশে সাধারণ বার্তা নয়, বরং দলের অন্দরে শৃঙ্খলা ফেরানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ। সম্প্রতি রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কোনও আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর গত কয়েক মাসে বিজেপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, প্রভাব খাটানো এবং অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই আড়াইশোরও বেশি নেতা-কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে ২২ জনকে সাময়িক বরখাস্তও করেছে দল। কিছু দিন আগে জগদ্দলের বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমারও বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এই আবহেই জিতেন্দ্র তিওয়ারির বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে যখন সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না— পাণ্ডবেশ্বরের সভা থেকে কার্যত সেই বার্তাই দিলেন বিজেপি বিধায়ক। তাঁর কথায়, মানুষের আশীর্বাদই রাজনৈতিক কর্মীর সবচেয়ে বড় শক্তি; ভয়, দাদাগিরি বা ক্ষমতার দাপট নয়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


