Suvendu Adhikari: মসনদে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র! লোকভবনে সরকার গঠনের দাবি BJP-র, কড়া প্রহরায় ব্রিগেড
Suvendu Adhikari: বৃহস্পতিবারই পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করে লোক ভবন। রাজ্যপাল রবির দফতরের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৭ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।
Suvendu Adhikari: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ের পর এবার সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করল বিজেপি। জল্পনা-কল্পনার শেষে শুক্রবারই শেষ পর্যন্ত সামনে এসেছে নাম। রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরই সন্ধ্যায় লোকভবনে পৌঁছে রাজ্যপাল আর.এন. রবির কাছে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের দাবি পেশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শায়ের উপস্থিতিতে দলীয় বিধায়করা তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন।

সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া বিজেপির
শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় বিজেপি বিধায়কদের একটি হাই-ভোল্টেজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অমিত শাহ-র উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করা হলে উপস্থিত সমস্ত বিধায়ক তাঁকে সমর্থন জানান। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি খোদ ভবানীপুর কেন্দ্রেও তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার ঐতিহাসিক কৃতিত্বই শুভেন্দুকে এই পদের একমাত্র দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বৈঠক শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে লোকভবনে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাংসদ সুকান্ত মজুমদার-সহ অন্য বিধায়কেরা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এবং পড়শি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সংবিধান মেনে নবনির্বাচিত বিধায়কদের সমর্থনে রাজ্যপালের কাছে নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানান তিনি।
একই সঙ্গে রাজ্যপালের হাতে বিধায়কদের স্বাক্ষরপত্র তুলে দেন বিজেপির সদ্য নির্বাচিত বিধায়কেরা। তালিকায় শুভেন্দু, শমীক ছাড়াও ছিলেন দিলীপ ঘোষ, তাপস রায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। তার ভিত্তিতেই রাজ্যপাল শনিবার বিজেপি-র নতুন সরকারকে শপথগ্রহণ করাবেন। পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শাহের সঙ্গে দায়িত্ব পেয়েছিলেন মাঝিও। যে কোনও রাজ্যে নির্বাচনের পর বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের সময় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সেই রাজ্যে পাঠান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রধান পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল শাহকে। তাঁর সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন পড়শি রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মাঝি।
বৃহস্পতিবারই পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করে লোক ভবন। রাজ্যপাল রবির দফতরের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৭ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার অর্থ হল সরকারও আর নেই। ইস্তফা না-দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মন্ত্রিসভা এখন ‘প্রাক্তন।’ তবে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ মমতাকে বরখাস্ত করেননি রাজ্যপাল। আবার তাঁকে নতুন সরকারের শপথ পর্যন্ত ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেননি।
ব্রিগেডে মেগা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান
আগামী কাল, ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত হতে চলেছে নতুন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মেগা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর কেন্দ্রে জয়ী প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শনিবার মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেমন থাকবেন, তেমনই থাকবেন বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। হাই-প্রোফাইল এই সফর এবং জনজোয়ারের কথা মাথায় রেখে স্বাভাবিক ভাবেই নিরাপত্তার কড়়াকড়ি থাকবে ময়দান-সহ রাজ্য রাজধানীর বিস্তীর্ণ অংশে। জানা গিয়েছে, নিরাপত্তার খাতিরে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে কমবেশি ৩৫টি সেক্টরে ভাগ করেছে পুলিশ। কয়েকটি সেক্টর নিয়ে তৈরি হবে একটি ব্লক। শুধু সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন আইপিএস পদমর্যাদার একজন অফিসার। নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ স্বয়ং।
মাঠের প্রথম দিকের কয়েকটি ব্লকে থাকবেন ভিভিআইপি বা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। ভিভিআইপির সংখ্যাটা হতে পারে প্রায় ৪০। সেখানে নিরাপত্তার কড়াকড়ি সবচেয়ে বেশি। কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, ভিভিআইপি এবং নিমন্ত্রিত অতিথি ছাড়া যে কেউ শপথগ্রহণ দেখতে যেতে পারেন ব্রিগেডে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে সকলকেই পরীক্ষা করা হবে। ছাতা, ব্যাগ, জলের বোতল কিছুই নিয়ে যাওয়া যাবে না। কেউ ওই সব নিয়ে গেলে তাঁদের ফেরানো হবে। তাই ছাতা, ব্যাগ ইত্যাদি না নিয়ে যাওয়ারই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ব্রিগেড ময়দান থেকে আশপাশের এলাকা ঘিরে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ইতিমধ্যেই এসপিজি প্রধানমন্ত্রীর জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক এবং সরেজমিনে খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করে দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ব্রিগেডের আশেপাশের বহুতল থেকে নজরদারি চালানো হবে শনিবার। ব্রিগেডের বাইরে শহরে ভিভিআইপিদের নিরপত্তায় নজরদারিতে ড্রোন ব্যবহার করা হবে।
কোন কোন রাস্তায় নজর?
কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছেন, শনিবার ভোররাত ৪টে থেকেই শহরের একাধিক রাস্তায় পণ্যবাহী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাত ৮টা পর্যন্ত এই নিয়ন্ত্রণ বলবৎ থাকবে। তবে এলপিজি সিলিন্ডারবাহী মালগাড়ি, সিএনজি, পেট্রোলিয়াম, তেল, লুব্রিক্যান্ট, অক্সিজেন, শাক-সব্জি, ওষুধপত্র, মাছ, ফল, দুধভর্তি গাড়ি এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের পার্শ্বস্থ রাস্তা, যেমন, এজেসি বোস রোডের কিছু অংশ থেকে হেস্টিংস ক্রসিং, ক্যাথিড্রাল রোড, খিদিরপুর রোড, হসপিটাল রোড, কুইনস্ওয়ে, লাভার্স লেন ইত্যাদি রাস্তার ধারে গাড়ি রাখা যাবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী, শনিবার শহরে যান চলাচলের ক্ষেত্রে আরও কিছু নিয়ন্ত্রণ আনা হতে পারে।
E-Paper

