সিদ্দিকুল্লা টিকিট পেতেই বোমাবাজি! তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রণক্ষেত্র মন্তেশ্বর, লাঠিচার্জ...

মঙ্গলবার সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণার পরে বাজি ফাটাচ্ছিল তাঁর অনুগামীরা। আনন্দ-উত্তেজনায় আবির খেলেন তাঁরা।

Published on: Mar 18, 2026, 22:21:26 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরে ফের একবার সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তারপরেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা। এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী। শেষমেশ সংঘর্ষ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, তা থামাতে পুলিশকে রীতিমতো লাঠিপেটা করতে হয়।

তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রণক্ষেত্র মন্তেশ্বর
তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রণক্ষেত্র মন্তেশ্বর

মন্তেশ্বরের ব্লক সভাপতি আহমেদ হোসেনের সঙ্গে রাজ্যের বিদায়ী গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর পুরনো বিবাদ রয়েছে। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণার পরে বাজি ফাটাচ্ছিল তাঁর অনুগামীরা। আনন্দ-উত্তেজনায় আবির খেলেন তাঁরা। এরপর এই নিয়েই আহমেদ গোষ্ঠীর লোকের সঙ্গে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ বেঁধে যায়। দুই গোষ্ঠীর তরফে বোমাবাজিও করা হয় বলে অভিযোগ । খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় মন্তেশ্বর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে লাঠিচার্জ করে, ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে সিদ্দিকুল্লা অনুগামী হিসাবে পরিচিত সফিক শেখ বলেন, 'সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণা হতেই আমাদের উপর বাবুল খাঁ, খোকন মণ্ডল-সহ আরও অনেকে হামলা চালায়। ৩৫ থেকে ৪০ জন হামলা চালায়। আমরা শুধু দাঁড়িয়েছিলাম। অকারণে মেরেছে। আমি চাইছি ওদের শাস্তি। ঘুষি-কিল চড় যে যেমন পেরেছে মেরেছে। আমাদের প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম আসার জন্যই এই হামলা।'

অন্যদিকে, বিপক্ষ গোষ্ঠী অতিযুব মণ্ডল বলেন, 'আমি তো বাজারে ছিলাম। খবর এল আমার বাড়িতে বোমা এল। খোকন শেখ আমার বাড়িতে বোমা মেরেছে। ও একসময় বিজেপি করেছে।' বেশ কয়েকমাস ধরেই মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তাঁর দলেরই নেতা-কর্মীরা । এমনকী মন্ত্রী গোষ্ঠী ও বিপক্ষ গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারিও ঘটে । ফলে নিজের দলের বিরুদ্ধে নাম না করে মন্তেশ্বরে ঘরোয়া বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েও বারবার সরব হয়েছেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী । সেই সব ঘরোয়া বৈঠকে তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে জানান, তিনি ধৈর্য ধরে আছেন বলেই বারবার সংঘাত এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। নিজেকে সংযত না করলে নিজেদেরই ক্ষতি হবে।

মঙ্গলবার রাজ্যের ২৯১টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে তৃণমূল। তারপরই সামনে এল জেলায় জেলায় একই ছবি। ২০১১ সাল থেকে হুগলির চুঁচুড়ার টানা তিনবারের বিধায়ক অসিত মজুমদারকে এবার আর প্রার্থী করেনি দল। বদলে এবার এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তরুণ নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার তিনবারের বিধায়ক রফিকুর রহমান। কিন্তু তাঁকেও এবার টিকিট দেয়নি দল। বদলে প্রার্থী হয়েছেন পিরজাদা কাশেম সিদ্দিকি। এই অবস্থায় বিক্ষোভ দেখান রফিকুর রহমানের অনুগামী তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে চলে বিক্ষোভ-অবরোধ। উপনির্বাচনে জেতার পর থেকে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের টানা ৪ বারের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। এবার তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে। প্রতিবাদে এদিন ক্ষোভ উগরে দেন তাঁর অনুগামীরা।