'রাজ্য সরকারকে এড়িয়ে...,' মাধ্যমিকের আগে বিতর্ক, BLO নিয়োগে কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ব্রাত্য

এবার রাজ্যে মোট ২৬৮২টি পরীক্ষা কেন্দ্র থাকছে। এই বিপুল পরীক্ষাব্যবস্থা সামলাতে প্রয়োজন প্রায় এক লক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পরিদর্শক, ভেন্যু সুপারভাইজার ও ইনচার্জ হিসেবে।

Published on: Dec 19, 2025, 18:56:29 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

এসআইআর ঘিরে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের টানাপড়েন শুরু থেকেই সামনে আসছে। এবার সেই সংঘাত আরও তীব্র হল বিএলও নিয়োগকে কেন্দ্র করে। রাজ্য সরকার ও শিক্ষা দফতরকে না জানিয়ে রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিএলও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তাঁর দাবি, রাজ্যকে পাশ কাটিয়ে এ ভাবে কাজ করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে কমিশন।

শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

নির্বাচন কমিশনের কাজের জন্য মাধ্যমিক পরীক্ষায় যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সেই বার্তা দিয়ে সম্প্রতি কমিশনকে একটি চিঠি দিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। চলবে ওই মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত। ওই সময় কমিশনের কাজে শিক্ষকরা যুক্ত থাকলে পরীক্ষার ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক সমস্যা হতে পারে, এই আশঙ্কা জানিয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। পরীক্ষার সময়ে শিক্ষকদের ভোটের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে। পর্ষদের সেই অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ব্রাত্য বসু। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'এটা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মানসিকতা। রাজ্য সরকারকে এড়িয়ে চলা হচ্ছে। তানাশাহী চলছে।' তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের বেতন, পেনশন সুরক্ষিত। অন্যান্য রাজ্যে বেশিরভাগই চুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষকরা কাজ করেন। সেই কারণেই এভাবে শিক্ষা দফতরকে এড়িয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

যদিও এ ব্যাপারে রাজ্যের সিইও বলেন, 'বিএলও নিয়োগ তো ইআরও স্তর থেকে হয়েছে এবং নিশ্চয়ই সেটা শিক্ষা দফতরকে জানিয়ে করা হয়েছে।' মধ্যশিক্ষা পর্ষদের চিঠিতে পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। এবার রাজ্যে মোট ২৬৮২টি পরীক্ষা কেন্দ্র থাকছে। এই বিপুল পরীক্ষাব্যবস্থা সামলাতে প্রয়োজন প্রায় এক লক্ষ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পরিদর্শক, ভেন্যু সুপারভাইজার ও ইনচার্জ হিসেবে। ফলে ওই শিক্ষকসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসআইআর প্রক্রিয়া চালানোর আবেদন জানানো হয়েছে কমিশনকে। পাশাপাশি যাঁরা পরীক্ষার সরাসরি দায়িত্বে থাকবেন, তাঁদের ভোট সংক্রান্ত সমস্ত কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এসআইআর ঘিরে কমিশন বনাম রাজ্যের সংঘাত এ বার পৌঁছল মাধ্যমিক পরীক্ষার দোরগোড়ায়। প্রশাসনিক টানাপড়েনের আঁচ যাতে পরীক্ষার্থীদের উপর না পড়ে, সে দিকেই এখন নজর সকলের।