'রাতেও আমরা একসঙ্গে গল্প...,' প্রাক্তন মন্ত্রীর মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ ভাই, স্তম্ভিত রামপুরহাটের পড়শিরাও

Asish Banerjee Death: রামপুরহাটের পাঁচবারের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ঝুলন্ত। রবিবার সকালে রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় নিজ বাসভবন সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Published on: Aug 16, 2026, 12:07:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Asish Banerjee Death: শনিবার রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত একসঙ্গে বসে গল্প করেছিলেন। তখনও দাদাকে (Asish Banerjee) দেখে কিছু বুঝতে পারেননি ভাই প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিদিনের মতো কত রাত পর্যন্ত আড্ডা হয়েছে। হাসিমুখেই ছিলেন দাদা। তারপর আজ সকালে এরকম ঘটনা। স্বাভাবিকভাবেই মানতে পারছেন না ভাই প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। কোথা থেকে কী হয়ে গেল বুঝতে পারছেন না তিনি। স্তম্ভিত পরিবারের লোকেরা-পাড়াপড়শিরাও।

প্রাক্তন মন্ত্রীর মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ ভাই (সৌজন্যে টুইটার)
প্রাক্তন মন্ত্রীর মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ ভাই (সৌজন্যে টুইটার)

রামপুরহাটের পাঁচবারের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ঝুলন্ত। রবিবার সকালে রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় নিজ বাসভবন সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ (Suicide Note) উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মঘাতী হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। এদিকে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই জানাচ্ছেন, প্রতি দিনের মতো শনিবারও রাত পর্যন্ত একসঙ্গে বসে গল্প করেছেন তাঁরা। তার পর আশিস নিজেই উঠে খেতে যান। দরজা বন্ধ করে দেন ঘরের। সকালে দলীয় কার্যালয়ের দরজার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভিতর তাঁর দেহ ঝুলতে দেখা যায়।

প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘রাতেও আমরা একসঙ্গে বসে গল্প করলাম। বোঝাই যায়নি এমন কাণ্ড ও ঘটাবে। রাত ১২টা পর্যন্ত আমরা বাড়ির সকলে বসে গল্প করেছি। তার পর নিজেই খেতে উঠল, দরজা বন্ধ করল। সকালে এই খবর শুনলাম। বিশ্বাস করতে পারছি না।’ খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। অন্যদিকে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় কার্যালয়েই ছিলেন সারা দিন। তাঁর কথায়, ‘কাল সন্ধ্যাবেলাতেও কথা বলে গিয়েছি। অফিসেই বসেছিলেন। প্রতি রাতেই আমাদের আড্ডা হয়। কাল আসিনি। ভাবতেই পারিনি এটা হতে পারে। ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয়, মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন। অনেকে অনেক রকম অপমান তো করছিল। আত্মসম্মান বোধ থেকে এটা হয়েছে। না হলে ওঁদের বাড়ি খুব শান্তিপূর্ণ। কোনও দিন কারও সঙ্গে অশান্তি নেই।’ রাজনৈতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও আশিস কোনও দিন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে মনে করতে পারছেন না স্থানীয় নেতারা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ২৪ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন। সেই ধ্রুব সাহা বলছেন, ‘এটা মর্মান্তিক ঘটনা, অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কেন আত্মহত্যা করলেন, বুঝতে পারছি না। রামপুরহাটের মানুষ এ বার বিজেপিকে জিতিয়েছে। আমি জেতার পর ওঁর বাড়ি গিয়ে প্রণাম করেছিলাম। কখনও মনে হয়নি এটা উনি করতে পারেন। পারিবারিক কারণ না রাজনৈতিক, যা-ই হয়ে থাক, সেটা প্রকাশ্যে আসা উচিত। যারা দোষী, তাদের তদন্তের আওতায় আনতে হবে।’

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকাহত বীরভূমের তৃণমূলত্যাগী এনসিপিআই সাংসদ অসিত মাল। তিনি বলেন, ‘ভাবতেই পারছি না। মনে হচ্ছে, সর্বস্ব শেষ হয়ে গেল। ওঁর কোনও অভিযোগ থাকলে তদন্ত করা উচিত। এমন মানুষ যদি বেঁচে থাকতেন, রাজনীতির বাইরেও, তাঁর কথা এবং কাজের মাধ্যমে মানুষকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন।’ এদিকে এলাকার কংগ্রেস নেতা সৈয়দ আজগর কিনু বলেন, ‘সকালে ফোন পেয়েই ছুটে এসেছি। বিশ্বাস করতে পারিনি। ২০ বছর ধরে আমি বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ১৫ বছর স্যারকে নানা প্রশ্ন করেছি। তৃণমূল দলের বিরুদ্ধে ১৫ বছর কথা বলেছি। ওঁর সাদা পাঞ্জাবিতে কোনও দাগ ছিল না, সেটা আগেও বলেছি, এখনও বলছি।’ স্থানীয় সিপিএম নেতা সঞ্জীব মল্লিকের বক্তব্য, ‘এত দিনের রাজনৈতিক জীবন। এ ভাবে চলে যাবেন ভাবিনি। খুবই দুঃখজনক ঘটনা।’